নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনি ও বউবাজার এলাকায় বালুর ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় কৃষক দলের এক নেতার ওপর নৃশংস হামলার জের ধরে পরবর্তীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সাহেব আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এই জোড়া সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ২০ মিনিটে আটি ওয়াপদা কলোনির বউবাজার এলাকায় নিজ বাসার সামনে হামলার শিকার হন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাব্বির আহাম্মেদ (২৮)। সাব্বিরের অভিযোগ, বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত হিসেবে পরিচিত সাহেব আলীসহ কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। ধারালো চাপাতি, সুইচগিয়ার ও ছেনি দিয়ে তার বাম পা, পিঠ ও ডান হাতে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তার পকেটে থাকা ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় সাব্বির বাদী হয়ে সাহেব আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সাব্বিরের ওপর হামলার ঘটনার প্রায় এক মাস পর ১২ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জের বউবাজার এলাকায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন খোদ অভিযুক্ত সাহেব আলী। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সাহেব আলীর ছেলে মো. সজিবের ভাষ্য অনুযায়ী, তার চাচা রবিউলকে গুলি করার খবর পেয়ে তিনি ও তার বাবা ঘর থেকে বের হন। এ সময় লুৎফর রহমান রনি ও আসলামের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে রনির সরাসরি গুলিতে সাহেব আলী মাথায় মারাত্মক আঘাত পান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, লুৎফর রহমান রনি একসময় সাহেব আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী থাকলেও পরবর্তীতে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সিদ্ধিরগঞ্জের হাউজিং এলাকায় রড লুটের ঘটনায় তাদের নাম আসে এবং পরবর্তীতে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে রনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভিড়ে যান। অন্যদিকে, সাহেব আলীর সঙ্গে সাজ্জাদের বালুর গদি নিয়ে বিরোধ ছিল। এই বিরোধের সূত্র ধরেই সাব্বিরকে কোপানোর ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৩ অক্টোবর নিহত সাহেব আলীর স্ত্রী কল্পনা বেগম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় লুৎফর রহমান রনি ও আসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, কৃষক দল নেতা সাব্বির আহাম্মেদ ও নূর নবীসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে আটি ওয়াবদা কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. সাব্বির আহাম্মেদকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, নিহত সাহেব আলীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক মামলা ছিল এবং তিনি এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। থানার পরিদর্শক মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, সাহেব আলীর স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এমন ন্যাক্কারজনক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত সব অপরাধীর কঠোর শাস্তি ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
