কাশি, হাঁপানি বা হৃদ্রোগ। বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব বলতে সাধারণত এই সমস্যাগুলির কথাই মনে আসে। কিন্তু দূষিত বাতাসের প্রভাব পড়তে পারে চুলের উপরেও? সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাতাসে ভেসে থাকা অতি সূক্ষ্ম দূষিত কণা মাথার ত্বক ও চুলের গোড়ার কোষের ক্ষতি করতে পারে। ফলে বাড়তে পারে চুল ঝরে পড়ার ঝুঁকি।
চুলের গোড়ায় দূষণের থাবা
বায়ুদূষণের অন্যতম উপাদান পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম। পিএম ১০-এর কণার আকার ১০ মাইক্রোমিটার বা তার কম। পিএম ২.৫ আরও সূক্ষ্ম, যার আকার ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তারও কম। এই কণাগুলি মাথার ত্বকে পৌঁছে চুলের গোড়ার ক্ষতি করতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।
কী বলছে গবেষণা?
২০১৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ফিউচার সায়েন্স রিসার্চ সেন্টারের গবেষকেরা পরীক্ষাগারে মানুষের চুলের গোড়ার কোষের উপর দূষিত কণার প্রভাব পরীক্ষা করেন। ডিজেলের ধোঁয়া ও ধুলোর মতো দূষিত কণার সংস্পর্শে কোষে চুলের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী বিটা-ক্যাটেনিন প্রোটিনের মাত্রা কমে যায়। চুলের বৃদ্ধি ও গোড়া মজবুতের সঙ্গে যুক্ত আরও তিনটি প্রোটিনের মাত্রাও কমতে দেখা যায়। অর্থাৎ, দূষিত কণা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে পারে। তবে এই পরীক্ষা হয়েছিল পরীক্ষাগারে কোষের উপর, সরাসরি মানুষের মাথার ত্বকে নয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার অন্য গবেষণাতেও দূষিত কণার সংস্পর্শে চুলের গোড়ার কোষের ক্ষতি, প্রদাহ এবং কোষের অকাল বার্ধক্যের ইঙ্গিত মিলেছে। ইঁদুরের উপর করা একটি গবেষণায় আবার পিএম ২.৫-এর সংস্পর্শে প্রসবের পর চুল ঝরে পড়ার সমস্যা বাড়তে দেখা যায়। যদিও প্রাণীর উপর পাওয়া ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও একই ভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত নয়।

মানুষের উপরেও মিলেছে ইঙ্গিত
ব্রিটিশ জার্নাল অফ ডার্মাটোলজি-তে প্রকাশিত একটি বড় সমীক্ষায় ২০০৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে দীর্ঘদিন পিএম ২.৫-এর সংস্পর্শে থাকার সঙ্গে অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখা যায়। এটি এমন একটি রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা চুলের গোড়ায় আক্রমণ করে। ফলে মাথার নির্দিষ্ট অংশে গোলাকার হয়ে চুল উঠে যেতে পারে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১০ মাইক্রোগ্রাম বাড়লে অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ বেশি দেখা গিয়েছে। পিএম ১০-এর ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ৩২ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান দূষণ ও রোগের মধ্যে সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়, সরাসরি কারণ প্রমাণ করে না।
চুল বাঁচাতে কী করবেন?
চুল পড়ার পিছনে বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ ও পুষ্টির ঘাটতির মতো কারণও গুরুত্বপূর্ণ। তাই চুল পড়লেই শুধুমাত্র দূষণকে দায়ী করা ঠিক নয়। তবে দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে বাইরে থেকে ফিরে চুল ও মাথার ত্বক পরিষ্কার করে নেওয়া, বাইরে বেরনোর সময় মাথা ঢেকে রাখা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসে উপকার মিলতে পারে।
হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়লে বা মাথার নির্দিষ্ট অংশে গোল করে চুল উঠে গেলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি।
