বাংলাদেশ সমাচার ডেস্ক
দেশজুড়ে মশার অস্বাভাবিক উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ সীমিত থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা জানান, কয়েল ও অন্যান্য প্রতিরোধ ব্যবস্থাও কার্যকর হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে মশার উপদ্রব চললেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
মশার ওষুধ কার্যকর কিনা তা যাচাই করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিভিন্ন এলাকায় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য তা পাঠানো হয়েছে আইইডিসিআর–এ। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, বর্তমানে কিউলেক্স প্রজাতির মশার আধিক্য দেখা যাচ্ছে এবং নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পানির স্থবিরতা, ড্রেন ও জলাশয়ের অপর্যাপ্ত পরিষ্কার এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
চট্টগ্রাম নগরে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ১৬ মাসে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি মানুষ। গবেষণায় দেখা গেছে, নগরে মশার লার্ভার ঘনত্ব বেড়ে ৭৫ শতাংশের বেশি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
রাজশাহী নগরে মশা নিধন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফগার মেশিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা বন্ধ থাকায় মশার উপদ্রব বাড়ছে এবং ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে খুলনা নগরে ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য উপকরণের ঘাটতিতে মশা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে।
রংপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া ও কুমিল্লা–তেও মশা নিধন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা, ওষুধের অকার্যকারিতা এবং পর্যাপ্ত উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের আগে মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস, কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ এবং সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
