প্রতিপক্ষের মাঠে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বড় জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। ইস্তাম্বুলের রামস পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে গোল হজম করলেও পরে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে দাপুটে জয় নিশ্চিত করে কাতালানরা।
ম্যাচে গালাতাসারাইয়ের হয়ে গোল করেন আলেক্সেই বাতরাকভ। অন্যদিকে বার্সেলোনার হয়ে গোল করেছেন জোয়াও কানসেলো, ফেরমিন লোপেজ, অ্যান্থনি গর্ডন ও করিম আদেয়েমি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল বার্সেলোনা। এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল দলটি। পাশাপাশি লা লিগায় টানা আটটি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। তবে খেলার ধারার বিপরীতে ২৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিক গালাতাসারাই। রাফায়েল লিয়াওয়ের পাস থেকে বক্সে শট নেন আলেক্সেই বাতরাকভ। বলটি বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। ফলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা।
এরপর ৩৪তম মিনিটে বারিস আলপার ইলমাজের শটে আবারও গোলের দেখা পায় গালাতাসারাই। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। এতে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় বার্সেলোনা।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। ৪৩তম মিনিটে দানি ওলমোর বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন জোয়াও কানসেলো। নিজের গায়ে লেগে আসা বল থেকে প্রতিপক্ষের প্রথম গোল হওয়ার পর এবার গোল করে দলকে সমতায় ফেরান এই ডিফেন্ডার। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একের পর এক আক্রমণে স্বাগতিকদের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।
৫০তম মিনিটে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের দারুণ ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ফেরমিন লোপেজ। এই গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।
এর মাত্র তিন মিনিট পর পেদ্রির পাস পেয়ে দ্রুতগতিতে আক্রমণ তৈরি করেন ইয়ামাল। তার কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে জালে পাঠান অ্যান্থনি গর্ডন। ফলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩-১।
ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে বার্সেলোনার হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদেয়েমি। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গায়ে লেগে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শটে জালে পাঠান তিনি। এরপর ব্যবধান আরও বাড়ানোর কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলরক্ষকের বাধায় আর গোল পায়নি বার্সেলোনা।
পুরো ম্যাচে গোল করতে না পারলেও আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তার গতিময় খেলা ও সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় বার্সেলোনার আক্রমণকে আরও ধারালো করে তোলে।
শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে ইস্তাম্বুল ছাড়ে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা দ্বিতীয় জয়ের পাশাপাশি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে জয়ের এই ধারা দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। অন্যদিকে ঘরের মাঠে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় গালাতাসারাইকে।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
