ছবির ক্যাপশন: .
আমিনুল ইসলাম:
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সেবার সমন্বয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কিমিয়া সাদাত। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সততা, পেশাগত নিষ্ঠা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন সফল ব্যাংকার হিসেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নীতিমালা অনুযায়ী এমডি পদে নিয়োগ পেতে প্রয়োজন নির্দিষ্ট বয়স ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। সেই মানদণ্ড পূরণ করেই কিমিয়া সাদাত আগামী ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিউনিটি ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। প্রায় ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে দেশীয় ও বহুজাতিক ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি।
কর্মজীবনের শুরু থেকেই কিমিয়া সাদাত পেশাদারিত্ব, সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। কমিউনিটি ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি মেঘনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া এইচএসবিসি বাংলাদেশ, দ্য সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের মতো শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে অর্জন করেছেন ব্যাপক অভিজ্ঞতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স বিষয়ে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করা কিমিয়া সাদাত একজন সার্টিফায়েড ফিন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্ট (সিএফসি)। তার পেশাগত দক্ষতা ও আধুনিক ব্যাংকিং ধারণা তাকে আলাদা করেছে সমসাময়িক ব্যাংকারদের থেকে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে কমিউনিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আসার পর থেকেই দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটিতে। তার নেতৃত্বে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের নিট মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে আমানত ও ঋণ বিতরণেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ব্যাংকটি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য এসেছে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায়। দক্ষ কৌশল ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে খেলাপি ঋণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে, যা ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নেও কিমিয়া সাদাত রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তার উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো বাংলাকিউআর-এর মাধ্যমে ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের ক্যাশলেস পদ্ধতি চালু হয়। বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় ৬৪ শতাংশ লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে, যা ডিজিটাল রূপান্তরের স্পষ্ট উদাহরণ। এছাড়া এসএমই ৩০, স্টার্টআপ নেস্ট এবং প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাস সঞ্চয়’ প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে নতুন গ্রাহকভিত্তি তৈরি করেছে ব্যাংকটি। ডিজিটাল ন্যানো-লোন চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর উদ্যোগও প্রশংসিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও রয়েছে তার সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি। সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে তিনি কমিউনিটি ব্যাংককে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী তিন বছরে নতুন শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকিং, অফশোর ব্যাংকিং ও ব্যাংকাসুরেন্স সেবা চালুর উদ্যোগও এগিয়ে চলছে।
কিমিয়া সাদাতের লক্ষ্য স্পষ্ট—কমিউনিটি ব্যাংককে দেশের অন্যতম লাভজনক, সুশাসিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকে পরিণত করা। তার নেতৃত্ব, সততা ও কর্মদক্ষতা ইতোমধ্যেই ব্যাংকিং খাতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
