স্কুল চত্বরে পথকুকুরের উপদ্রবের অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়। এবার পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে স্কুল চত্বরে পথকুকুরের উপদ্রব বন্ধ করতে কড়া নির্দেশিকা জারি হল। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) দপ্তর এই নির্দেশিকা জারি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ এবং রাজ্য স্কুল শিক্ষা কমিশনারের আদেশের উপর ভিত্তি করে এই জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার সমস্ত স্কুল এবং মাদ্রাসার প্রধানদের এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
‘অ্যানিমেল হাজব্যান্ড্রি অফ ইন্ডিয়া’র এসওপি বা নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনেই স্কুলগুলোতে এই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নোডাল শিক্ষককে বিদ্যালয়ের প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। স্কুল চত্বরে কুকুর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য স্থানীয় ব্লক প্রশাসন অথবা সংশ্লিষ্ট পুরসভার নির্দিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। এছাড়াও বনগাঁ এবং বসিরহাট মহকুমার অতিরিক্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং সমস্ত বিদ্যালয় পরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা এই নিয়মগুলো স্কুলগুলোতে ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তার উপর কড়া নজরদারি চালান। স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুরক্ষায় যাতে কোনওরকম খামতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, স্কুল চত্বরে বা আশপাশে পথকুকুর বা বেওয়ারিশ কুকুরের হিংস্র আক্রমণ ও পড়ুয়াদের গুরুতর জখম হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ওড়িশার বালেশ্বরে বাথরুমে যাওয়ার সময় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে স্কুল চত্বরের ভেতরেই একটি পথকুকুর আঙুল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। হরিয়ানার হিসার জেলার সিসওয়াল গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি হিংস্র পথকুকুর সরাসরি ক্লাসরুমের ভিতরে ঢুকে ৬ জন পড়ুয়াকে কামড়ে দেয়। জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার একটি স্কুলে মিড-ডে মিল খাওয়ার সময় স্কুল চত্বরের ঠিক ভিতরেই একাধিক কুকুরের আনাগোনা এবং দৌরাত্ম্য নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। খাবারের লোভে কুকুরগুলো যেভাবে ছোট ছোট পড়ুয়াদের ঘিরে ধরছিল, তাতে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
