ভারতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের আহ্বান
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
ভারতে বিরোধী দল ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনের প্রেক্ষাপটে, সেখানে “অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ” বন্ধ করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (২০অক্টোবর) এক বিবৃতিতে দুই ডজন স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আচরণের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, বিক্ষোভকারীরা আহত হয়েছেন এবং কেউ কেউ দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিক্ষোভকারীরা আহত হয়েছেন এবং কেউ কেউ দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালীন এবং পরবর্তীতে আটকের ঘটনায় যৌন সহিংসতা ও লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের যে খবর পাওয়া গেছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল কর্তৃক নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট মানবাধিকার সংকট পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করার কাজ করেন,তবে তারা মূল সংস্থাটির (জাতিসংঘের) প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করেন।
ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি (১৩০ মিলিয়ন) নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এই মাসে ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), অন্যান্য বিরোধী দল এবং ছাত্র সংগঠনগুলো বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞান কুমার,এর পদত্যাগ দাবি করেছে।
বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, এই নাম বাদ দেওয়ার ঘটনাটি দরিদ্র ও গৃহহীন মানুষ এবং মুসলিমসহ বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাব ফেলেছে,যারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল,ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-কে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম রাখে।
বিজেপি এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্যমতে, তারা কেবল দ্বৈত নাম,মৃত ব্যক্তিদের নাম, স্থান পরিবর্তনকারী বা অন্য কোনো কারণে অযোগ্য ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। কমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভুলবশত যাদের নাম বাদ পড়েছে,তারা চাইলে আপিল করতে পারেন।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, “সমাবেশগুলো শান্তিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করেছে ,যার মধ্যে পুলিশের তথাকথিত লাঠিচার্জের ঘটনাও রয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দিতে বাধা দিয়েছে।”
লাঠিচার্জ হলো পুলিশ বাহিনীর একটি সুসংগঠিত পদক্ষেপ,যেখানে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার জন্য লাঠি ব্যবহার করা হয়।
তারা আরও বলেন, “আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা অবিলম্বে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করে,জনসমাবেশের ওপর আরোপিত ঢালাও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে এবং বায়োমেট্রিকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থার অপব্যবহার ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে।”
ভারত বারবারই এ ধরনের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে একে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। এমনকি চলতি মাসের শুরুর দিকে যখন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ব্যাপক ধরপাকড় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, তখনও ভারত একই অবস্থান নিয়েছিল।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
