রাজনৈতিক বিবেচনায় ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ করেও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়নি, বরং বড় আঞ্চলিক শহরগুলোয় বিনিয়োগ করলে কর্মসংস্থান, আয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজধানীর ওপর চাপ কমানো সম্ভব। প্রতিবেশী শহরগুলোও এর সুফল পেতে পারে।
অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে আলোচনায় সাধারণত ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান গুরুত্ব পেলেও দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক বৈষম্যও এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পিছিয়ে পড়া শিল্পাঞ্চল ও প্রান্তিক এলাকার মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রিয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান ঘটেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা দেখায়, আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে অবাধ সরকারি বিনিয়োগ কার্যকর নয়। দেশটির রাজধানী সিউলকেন্দ্রিক অঞ্চলের জাতীয় জিডিপিতে অবদান ১৯৯০-এর দশকের ৪৮ থেকে ২০১০-এর দশকে ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। রাজধানীর তুলনায় অন্যান্য অঞ্চলের গড় আয়ও কমেছে। ফলে রাজধানীমুখী অভিবাসন, যানজট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জন্মহার হ্রাসের মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ করেও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়নি, বরং বড় আঞ্চলিক শহরগুলোয় বিনিয়োগ করলে কর্মসংস্থান, আয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজধানীর ওপর চাপ কমানো সম্ভব। প্রতিবেশী শহরগুলোও এর সুফল পেতে পারে।
আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে বিনিয়োগের পরিমাণের চেয়ে সঠিক স্থান নির্বাচন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ছোট শহরে নির্বিচার অর্থ ব্যয় কিংবা রাজধানীতে বিনিয়োগের কেন্দ্রীভবন—কোনোটিই সর্বোত্তম সমাধান নয়। অর্থনৈতিক দক্ষতা, সামাজিক ন্যায্যতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বড় প্রান্তিক শহরগুলোকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। এভাবেই ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন সম্ভব।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে লেখা এক নিবন্ধে]
কিয়ুন লি: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক
