রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অনার্স ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির। তবে অনুষ্ঠান শুরুর নির্ধারিত সময়ের মাত্র ১২ ঘন্টা আগে ক্যাম্পাসে সকল ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কলেজ প্রশাসন। তবে এর মধ্যেও নবীনবরণ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রশিবির।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ছদরুদ্দীন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কলেজে সকল ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয়। অফিসিয়াল প্যাডে হাতে লেখা সংক্ষিপ্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেন তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র পূজা অনুষ্ঠান আগামীকাল থেকে শুরু হওয়ায় কলেজে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। এতে আরও উল্লেখ করা হয় নিষেধাজ্ঞাটি ধর্মীয় ও জাতীয় স্বার্থে প্রচার করা হলো।
জানা যায়, পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের তিতুমীর কলেজ শাখার আয়োজনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির তিতুমীর ক্যাম্পাসের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিতুমীর কলেজ অডিটোরিয়ামে নবীনবরণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল বুধবার (১৫ অক্টোবর)। এই অনুষ্ঠানে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেন ১,৪৫৩ জন শিক্ষার্থী।
তিতুমীর কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি খাদেমুল ইসলাম সিয়াম বলেন, পূর্বেই নবীনবরণ আয়োজনের বিষয়ে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আমরা ইতোমধ্যে লিখিতভাবে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে অফিসিয়াল প্যাডে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি। তিনি মৌখিকভাবে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান করেন। সেই অনুযায়ী আমরা নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করেছি, আমন্ত্রিত অতিথিদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এবং বিশাল প্যান্ডেল প্রস্তুতসহ প্রায় সমস্ত প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সব আয়োজন, শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার-দাবার এবং উপকরণের কেনাকাটা সম্পন্ন করেছি। অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় সভাপতি, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কিন্তু অনুষ্ঠানের ঠিক আগ মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। তবুও আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নবীনবরণ করবো।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতি সম্প্রতি ছাত্রদল শো-ডাউন করে অধ্যক্ষ মহোদয়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করে এক ধরনের স্থগিতাদেশ বা নোটিশ জারি করেছে। এর আগে শিবিরের নবীনবরণের কিছু ব্যানার ছেঁড়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসে শিবিরের নবীনবরণ উপলক্ষে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই আমরা অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আমরা আমাদের কলেজের নবাগত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেব।
এনটি
