জাবির নিখোঁজ শিক্ষার্থীর খোঁজ মিলল কুমিল্লার দাউদকান্দিতে
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->শিক্ষকদের দায়ী করে চিরকুট লিখে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলামের খোঁজ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা মোহাইমিনুলকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হবে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রসঙ্গগত, গতকাল রবিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে ঢাকায় যাওয়ার পর থেকে মোহাইমিনুল নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি তার আবাসিক হলের কক্ষে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও মানসিক চাপের অভিযোগ এনে একাধিক চিরকুট রেখে যান। এ ঘটনার জেরে তাকে উদ্ধারের দাবিতে গতকাল রাতেই বিভাগে তালা ঝুলিয়ে ৮ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন তার সহপাঠীরা।
আমানুল্লাহ/নাঈম
আরও পড়ুন
ঢাবিতে নিকাব ইস্যুতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ক্লাস চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে কটাক্ষের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক ও তাকে সমর্থনকারীদের প্রতি ঘৃণা ব্যক্ত করে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।
অভিযুক্ত তাসনিম সিরাজ মাহবুব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিভাগের শ্রেণিকক্ষে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা মুখে কালো মাস্ক পরে ওই কর্মসূচি পালন করেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি নিকাব পরিহিত এক নারী শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে ছয়জন ছাত্রকে এক বেঞ্চে বসতে দেখে তাদেরকে ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অডিও ক্লিপও ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজকে বিভাগের সব ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ দিকে গত রবিবার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা খর্বের চেষ্টা ও ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার প্রতিবাদে ক্লাসরুমে মুখে কালো কাপড় বেঁধে পাঁচ মিনিট নীরব প্রতিবাদ জানায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তার এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে, ‘রেড কার্ড টু রেসিস্ট, ক্লাসিস্ট অ্যান্ড হিপোক্রিট’ এবং ‘রেড কার্ড টু দোজ হু সাপোর্ট ডিসক্রিমিনেশন, হিউমিলিয়েশন অ্যান্ড বুলিং’ কর্মসূচি পালন করে ওই শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েম বলেন, তাসনিম সিরাজ মাহবুব ম্যাম ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী নেকাব করায় তাকে ফান্ডামেন্টালিস্ট এবং সন্ত্রাসী বলে অবিহিত করেন। এছাড়াও, তিনি একই ক্লাসে ছেলেদের ৬ জন এক বেঞ্চে বসায় ‘গে’ এবং ‘গরিব’ বলে অবিহিত করেন। পরবর্তীতে তিনি তার ফেইসবুক লাইভে এগুলোর কোন কিছু এড্রেস না করে এক পাক্ষিক এআই নির্ভর বিবৃতি দেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, শিক্ষক নেটওয়ার্কের সামিনা লুৎফা ম্যাম এবং তার অন্যান্য অনুসারী তাকে নির্লজ্জভাবে ডিফেন্ড করেছেন। তাছাড়াও, তারা শিক্ষার্থীদেরকে মূল অপরাধী হিসেবে প্রোট্রে করার চেষ্টা করছেন। আজকের প্রতিকী প্রতিবাদ তাদের সকলের বিরুদ্ধে।
আতিক খন্দকার নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, তাসনিম সিরাজের মতো শিক্ষকদের নৈতিকভাবে বর্জন করি, যারা ব্যক্তিগত অস্বস্তির দোহাই দিয়ে অন্যের পোশাকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মতাদর্শের প্রতি আগ্রাসী আচরণ করেন। একজন মানুষের অস্বস্তি কখনোই অন্যের স্বাধীনতার মাপকাঠি হতে পারে না।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (২০১৯-২০ সেশন) ক্লাসে নেকাব পরে আসায় এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠে বিভাগের তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। পরে এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক ক্লাস বর্জন করেন। পরে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর তাকে ওই বিভাগের সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরিফ জাওয়াদ/রিফাত/
আরও পড়ুন
রাবি ক্যাম্পাস ও ফুলতলায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও নগরের জনবহুল ফুলতলা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে ইউনাইটেড নেশনস ইয়ুথ অ্যান্ড স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউনিস্যাব)-এর রাজশাহী ডিভিশন।
‘প্রজেক্ট ক্লিন অ্যান্ড কেয়ার ২.০’-এর আওতায় সম্প্রতি ‘পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা’ শীর্ষক এ কার্যক্রমে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বুধপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ১৫ প্রজাতির ১৫০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
ক্যাম্পাস থেকে ফুলতলায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে স্বেচ্ছাসেবীদের সমবেত করার মধ্য দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়। স্বেচ্ছাসেবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা, প্যারিস রোড, আমচত্বর ও জোহা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। পরে তারা নগরের জনবহুল ফুলতলা এলাকায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালান।
স্কুলশিক্ষার্থীদের হাতে ১৫ প্রজাতির গাছের চারা
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বুধপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘প্রজেক্ট ক্লিন অ্যান্ড কেয়ার ২.০’-এর প্রথম কার্যক্রম হিসেবে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থীকে রং ও আর্ট পেপার উপহার দেওয়া হয়। ‘আমি আমার পরিবেশকে কেমন দেখতে চাই’ শীর্ষক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাবনা লিখে সবার সামনে পড়ে শোনায়।
বৃক্ষরোপণ পার্টনার চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ১৫ প্রজাতির ১৫০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এসব চারার মধ্যে ছিল বাতাবিলেবু, তেঁতুল, জলপাই, আমড়া, কাঁঠাল, আতাফল, কামরাঙা ও কদবেলসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ।
সামনে মানসিক স্বাস্থ্য ও বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ
‘প্রজেক্ট ক্লিন অ্যান্ড কেয়ার ২.০’-এর পরবর্তী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টায় ফেসবুক লাইভে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।
তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং মনোসামাজিক সুস্থ্যতা বিষয়ে সচেতন করতে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়া সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজশাহীর একটি সাঁওতাল পল্লিতে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এতে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেবেন। কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ১৪ অক্টোবর।
প্রকল্পটির সার্বিক বাস্তবায়নে সহযোগী পার্টনার হিসেবে গ্রো-আপ যুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া, বৃক্ষরোপণ পার্টনার হিসেবে চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবিনার পার্টনার হিসেবে Psycoach Bangladesh, নিরাপত্তা পার্টনার হিসেবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), মিডিয়া পার্টনার হিসেবে বার্লো কমিউনিকেশনস লি: এবং রেডিও পার্টনার হিসেবে রেডিও পদ্মা ৯৯.২ এফএম।
বিজ্ঞপ্তি/
আরও পড়ুন
জাবিতে চিরকুট লিখে শিক্ষার্থী নিখোঁজ, ৮ দফা দাবিতে ফটকে তালা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকদের অবহেলা ও মানসিক চাপের অভিযোগ জানিয়ে চিরকুট লিখে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ৮ দফা দাবিতে বিভাগের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম কাজী মোহাইমিনুল ইসলাম। তিনি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে ইংরেজিতে লেখেন, পরিস্থিতি তাকে কঠোর ও ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। অন্যদের অহংকারের কারণে তিনি সবকিছু হারিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিজ কক্ষে রেখে যাওয়া চিরকুটে বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আমার হাতে মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো অপশন নেই। কারণ তারা আমাকে এই দিকে ঠেলে দিয়েছে।’
শিক্ষকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ৬ মাস নাটক করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে আমাকে।’
আরেকটি চিরকুটে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ছোট ভাইকে তুরস্কে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বন্ধুদের কাছ থেকে নেওয়া ধারের টাকার হিসাব ও টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশনাও আলাদা চিরকুটে লিখে গেছেন তিনি।
সহপাঠীর নিখোঁজ হওয়া এবং চিরকুটে শিক্ষকদের দায়ী করার জেরে শিক্ষার্থীরা বিভাগের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে মোহাইমিনুলকে খুঁজে বের করা, শিক্ষকদের অবহেলার বিষয়টি তদন্তে নিরপেক্ষ কমিটি গঠন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং মোহাইমিনুলের জিএস- ৪০৪ কোর্সের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বন্ধু ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘প্রশাসন বলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেষ্টা করছে, কিন্তু আমরা এখনও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। রাতে কোনো শিক্ষক ছিলেন না, তার আগেও কেউ দৃশ্যমান ছিলেন না।’
তালা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির ভয়াবহতা যেন তারা উপলব্ধি করেন, সেজন্যই তালা দেওয়া হয়েছে মোহাইমিনুলকে খুঁজে পাওয়া এবং আমাদের আট দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই তালা খোলা হবে না।’
ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হোসাইন মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘এখনও কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারের সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং ওর বাবার সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড নূরুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে থানায় জিডি করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা জেলার এসপি, স্থানীয় থানা ও ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। রাতে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ফোনের সিম ট্রেস করে গাজীপুর অঞ্চলের কোনো এক জায়গায় তার অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। পুলিশ সুনির্দিষ্ট লোকেশন যাচাই-বাছাই করছে। শিক্ষার্থীকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে আনাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
আমানউল্লাহ/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে চুয়েটে ঢুকলেন নতুন উপাচার্য
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯ এএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৭ এএম
নিজ দপ্তরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ছবি: খবরের কাগজ
-->চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে ঢুকেছেন নতুন উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল উপাচার্যের। এ জন্য ১০ অক্টোবর বিকেলে তার ঢাকায় যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তার অনুপস্থিতিতে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে পূর্বঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী উপাচার্য ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেলেও সোমবার সকালে হঠাৎ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক ৮-১০ জন নেতা-কর্মীও তার সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন। পরে তারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিন নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
ইবাদ হোসেন/সালমান/
