কালবেলা · অর্থনীতি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম
১৬/১০/২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার সকালে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে তেলের পরিবহন ব্যয় কমাতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যায়ন করছেন বিনিয়োগকারীরা।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ১২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ১০৫ ডলার ৫১ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলার ৪৩ সেন্টে দাঁড়ায়।
জ্বালানি সরবরাহের চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ২ কোটি ব্যারেলের বেশি ডিজেল এবং গত মার্চে জরুরি মজুত থেকে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া অবশিষ্ট তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর এ উদ্যোগ তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ পরিবহনের ব্যয় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহন করেছে, এমন কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো জ্বালানি বাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত তীব্র হওয়ায় আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। এ অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ফলে বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
সূত্র: আল জাজিরা
মূল প্রতিবেদনে যান ↗