সুদান ও মিশর সীমান্তে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন বেসামরিক স্বর্ণসন্ধানী নিহত হয়েছেন। সুদানের রাজধানী খার্তুমভিত্তিক ‘ইমার্জেন্সি লয়ারস’ নামের মানবাধিকার সংস্থা জানায়, শনিবার সুদানের রিভার নাইল প্রদেশের একটি জনপ্রিয় স্বর্ণ খনিতে এই হামলা চালানো হয়। এতে সনাতন পদ্ধতির খনি শ্রমিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে মিশর সরকার বা সুদানের বর্তমান কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগেও দক্ষিণ সীমান্তে অবৈধ কার্যকলাপ দমনের নামে মিসরের বিরুদ্ধে স্বর্ণসন্ধানীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠেছিল। ইমার্জেন্সি লয়ারস জানিয়েছে, এসব হামলা শুধু সুদানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন নয়, বরং এই অঞ্চলে সরকারের নিয়ন্ত্রণের অভাবকেও তুলে ধরে। রোববার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘নিরস্ত্র বেসামরিকদের ওপর ইচ্ছাকৃত এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং জীবনের অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এসব কাজ যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।’ তারা আরও জানায়, নিহতের এই সংখ্যা প্রাথমিক এবং তা আরও বাড়তে পারে।
প্যারিসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সুদান ট্রিবিউন জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ইমার্জেন্সি লয়ারসের দেয়া হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। শনিবারের হামলা থেকে বেঁচে ফেরা একজনের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, এতে আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে এই হামলা শুরু হয়। খনি শ্রমিকদের ক্যাম্প এবং খনন খাদগুলোর ভেতর মানুষ থাকা অবস্থাতেই সেখানে সরাসরি পাঁচটির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। মূলত সীমান্ত উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে স্বর্ণ। সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে সনাতন পদ্ধতির খনির কাজ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সাধারণ মানুষ আধুনিক যন্ত্রপাতি বা সরকারি অনুমতি ছাড়াই প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কাজ করেন।
রিভার নাইল প্রদেশের মতো স্বর্ণসমৃদ্ধ এলাকাগুলো অরক্ষিত সীমান্তে অবস্থিত, যা ঐতিহাসিকভাবে চোরাচালানের পথ হিসেবে পরিচিত। জুনে মিসরের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অপেশাদার খনি খননের সরঞ্জামসহ ৮৬ টন স্বর্ণের আকরিক জব্দ করার কথা জানিয়েছিল। সুদানের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতেও এমন খনির কাজ চলছে এবং চোরাচালান হওয়া এই স্বর্ণ সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আয়ের উৎস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
