Authored By:
Published on
:
2 min read
এই সময়: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে হামলার চেষ্টার অভিযোগে মঙ্গলবার আটক হওয়া মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার অনসূয়া সাহাকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে কি না— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল। ‘মমতা তৃণমূলে’র দাবি, দলের নেতৃত্বের কাছে খবর এসেছে, মঙ্গলবার রাতেই ওই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি রাতেই ফের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে আসেন। এই বিষয়ে বিশদে খোঁজখবর শুরু করেছেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি পরে জামিনে ছাড়া পান।
কালীঘাট মিলন সঙ্ঘের পুজো উদ্বোধন করতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার এই সিভিক ভলান্টিয়ার মমতাকে ঘুসি মারার চেষ্টা করেন এবং তাঁর হাতে ছুরি ছিল বলেও অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের। ‘মমতা তৃণমূলে’র সাংসদ দোলা সেন কালীঘাট থানায় ই–মেল করে যে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, সেখানে এই মহিলার হাতে ছুরি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধের এই ঘটনায় কালীঘাট থানার পুলিশ অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকে আটক করে।
বিধানসভার প্রেস কর্নারে বুধবার ‘মমতা তৃণমূলে’র মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আমরা শুনছি, তাঁকে (সিভিক ভলান্টিয়ার) নাকি রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি রাতে আরও কয়েকজনকে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছে চলে এসেছিলেন। আমরা এই তথ্য চেক করছি। দোলা সেন এফআইআর করার পরেও যদি তাঁকে রাতে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি সদলবলে ওখানে (কালীঘাটে) হাজির হন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ওঁর পিছনে কারা আছে তার তদন্ত হওয়া উচিত।’
যদিও মমতার উপরে হামলার ঘটনা মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে বুধবার মন্তব্য করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছেন, ‘এই ঘটনার সত্য–মিথ্যে জানি না। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর পার্টি, তাঁর পার্টির নেতাদের উপরে মানুষ ক্ষোভ রয়েছে। তাঁদের সমঝে চলা উচিত। পুজোর আগে উৎপাত করে কলকাতার পরিবেশ নষ্ট করা উচিত নয়। সিনিয়র লিডার হিসেবে ওঁর বোঝা উচিত, দুর্গাপুজো ও নবরাত্রি চলছে। এই সময়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে মানুষ আরও ক্ষুব্ধ হবে।’
‘মমতা তৃণমূল’ পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে, জে়ড প্লাস নিরাপত্তা যাঁকে দেওয়া হয়েছে, তাঁর কাছে কী ভাবে এক জন ছুরি নিয়ে পৌঁছে গেলেন? ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘উনি (মমতা) শুধু রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নন, উনি এক জন মহিলা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জে়ড প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে ভাবে ছুরি নিয়ে এক জন চড়াও হয়েছে, এটা যদি সুরক্ষার নির্দশন হয়, তা হলে সাধারণ মানুষ অথবা মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায় চিন্তা করুন।’