মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, কক্সবাজার টেকনাফ বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার হতে আচ্ছে মাদক বিনিময়ে যাচ্ছে খদ্যপণ্য, আজ পাচারকালে বিপুল পরিমাণ খাদ্য সামগ্রীসহ ১০ পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি অসাধু চক্র বাংলাদেশি পণ্যের বিনিময়ে ইয়াবা-মদ সহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য মায়ানমার হতে বাংলাদেশে পাচার করবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১ টার দিকে কোস্ট গার্ড জাহাজ কামরুজ্জামান কর্তৃক সেন্টমার্টিন ছেড়াদ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৩৭ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ১০,০০০ কেজি ডাল, ১ লক্ষ ৫০ হাজার পিস মশার কয়েল, ২৫০০ কেজি রসুন, ১,০০০ কেজি টেস্টিং সল্ট, ১০,০০০ পিস রয়েল টাইগার এনার্জি ড্রিঙ্কস, ২,৫০০ কেজি পেঁয়াজসহ ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত মালামাল, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধকল্পে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে । জানা গেছে, টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে ব্যাপক খাদ্যপণ্য। ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ-রসুন, চিনি, পানীয় পণ্যসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেশ বেড়ে গেছে। ইউরিয়া সার, সিমেন্টসহ গৃহসজ্জার সরঞ্জামও পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে ।
স্থানীয়রা বলেন, রসুন, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেলসহ অনেক খদ্যপণ্য চলে যাচ্ছে মিয়ানমারে অথচ কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশকে আমদানি করতে হয়। এসব পণ্য এভাবে পাচার হওয়ায় জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে আরকান আর্মি অবৈধভাবে নিচে খাদ্যপণ্য দিচ্ছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদ । এটি দেশের জন্য অনেক বড় ক্ষতিক্ষর দিক। এসব থেকে উত্তরণে যেকোনো মূল্যে চোরাচালান বন্ধ করা আবশ্যক। আরও বলেন এরআগেও কোস্টগার্ড ও বিজিবির অভিযানে খাদ্যপণ্য জব্দ করা করেছে ।
