চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে অনুমোদনহীনভাবে জৈব সার কারখানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকার পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, করিমপুর গ্রামের প্রধান সড়কের পাশে ‘তাকওয়া এগ্রো এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি জৈব সার কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। কৃষি বিভাগ থেকেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের আঁধারে বিভিন্ন কোম্পানির নামে বস্তা ও প্যাকেটজাত করে এসব সার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে এসব সার কিনে কৃষকেরা প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে কারখানা পরিচালনার কারণে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি শব্দদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, বসতিপূর্ণ এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে একটি জৈব সার কারখানা গড়ে উঠেছে, তা আমাদের জানা নেই। কারখানার মালিকের বাড়ি ঢাকার মুন্সীগঞ্জে। তিনি সেখান থেকে এসে এখানে কারখানাটি গড়ে তুলেছেন বলে আমরা জানি। এই কারখানার কারণে একদিকে যেমন শব্দদূষণ হচ্ছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকার সাধারণ মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
এ বিষয়ে তাকওয়া এগ্রো এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. নাশির বলেন, আমি যে সার তৈরি করি, সেটির কোনো অনুমোদন লাগে না। আর আমি এখানে সার বিক্রি করি না। এখান থেকে বস্তায় করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করি। তারাই এখান থেকে সার নিয়ে যায়।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, করিমপুর গ্রামে অবৈধভাবে জৈব সার কারখানা গড়ে তোলার বিষয়টি আমরা শুনেছি। সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অবৈধভাবে কোনো জৈব সার কারখানা গড়ে তোলা হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, কারখানাটির অনুমোদন, সার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বৈধতা এবং পরিবেশগত প্রভাব তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
