গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের গুরুদাসপুরে বাদ পড়া সাত কৃতি শিক্ষার্থীকে (চলতি বছর এসএসসি পাস) সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আগের তালিকায় থাকা আটজনের সঙ্গে এই সাতজনকে যুক্ত করে মোট ১৫ জনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। তবে আয়োজনটিতে কোনো সংবাদমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নম্বরের ভিত্তিতে উপজেলার আট মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার। তবে ওই তালিকায় গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রীর নাম ছিল না।
অনুষ্ঠান চলাকালে উপজেলার সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী সুমাইয়া জাহান উপস্থিত হয়ে তালিকায় নিজের ও প্রতিষ্ঠানের নাম না থাকার প্রতিবাদ জানায়। এ ঘটনায় সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট বিতরণ স্থগিত করে উপজেলা প্রশাসন।

সুমাইয়া ওই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলে সে সর্বোচ্চ নম্বর (১১৭৩) পেয়ে উপজেলার সেরা শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়।
পরে বাদ পড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন তালিকা করা হয়। আগের তালিকার আটজনের সঙ্গে আরও সাতজন যুক্ত হওয়ায় মোট ১৫ জনকে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে, এ নিয়ে আজকের পত্রিকার অনলাইন ও ছাপা সংস্করণে সংবাদ প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
আজকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিষয়ে গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কী কারণে তাঁর প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্রীদের নাম আগের তালিকায় ওঠেনি, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তবে দেরিতে হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য সম্মান পেয়েছে, এটিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বাদ পড়া সাত ছাত্রীর মধ্যে সুমাইয়া জাহান ও মাহফুজা জাহান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। তারা দুজনই রাজশাহীতে পড়াশোনা করে। পড়াশোনার কারণে আসতে না পারায় তাদের পক্ষে তিনি ক্রেস্ট গ্রহণ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের। সংবর্ধনা আয়োজনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভালো বলতে পারবেন। তাঁর দপ্তর থেকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়নি।
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ সোমবার বিকেলে মোবাইল ফোনে বলেন, যেকোনো কারণে আগের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছিল। সুবিধা বুঝে সোমবার কৃতী ছাত্রীদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়েছে। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক জানান, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আসতে বলা হয়েছিল। তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা সেখানে আসে। এ সময় অনেক ছাত্রীর অভিভাবকও উপস্থিত ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রেস্ট বিতরণ শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, জেলা প্রশাসকসহ অন্য অতিথিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পেত। তাঁদের মতে, আয়োজক কমিটির দায়িত্বহীনতার কারণেই উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রীদের নাম প্রথম তালিকায় বাদ পড়েছিল।
অনুষ্ঠানে ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বেগম রোকেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল, খুবজীপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান এবং চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আফসার আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

