খুলনা গেজেট অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৬:১৬ অপরাহ্ণ
বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া ইরানের প্রস্তাব এখনও টেবিলে বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। রবিবার (১৮ অক্টোবর) দেশটির সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ওই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন এক যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইরান ওই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। পরবর্তীতে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে গত সপ্তাহে জানান তেহরানের নিরাপত্তা প্রধান।
অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) বৈঠকে যোগ দিতে বাগদাদে অবস্থানকালে আরাঘচি বলেছিলেন, ‘‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে যে সাত দিনের প্রস্তাব দিয়েছি, তার ওপর ভিত্তি করেই আমাদের অবস্থান পরিষ্কার এবং নির্ধারিত। তারা তাদের মতামত জানিয়েছে; যা আমরা পর্যালোচনা করছি। তবে আমাদের প্রস্তাব এখনও বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের যদি বিন্দুমাত্র সততা থাকে; যেটি আসলে নেই, তাহলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথ একেবারেই স্পষ্ট।’’
ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যান্য দাবির পাশাপাশি রয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, দেশটির জ্বালানি তেল রপ্তানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সমস্ত ফ্রন্টে বৈরীতা বন্ধ করা।
আরাঘচি বলেন, ওয়াশিংটন যদি তেহরানের শর্তগুলো মেনে নেয়, তাহলে ছয় দিনের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব এবং এর পরদিনই পুনরায় আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হতে পারে।
শুরু থেকেই দুই দেশের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার জেদ। চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ এবং দুই দেশের আট মাসব্যাপী চলা এই যুদ্ধ অবসানে ইরানকে অবশ্যই তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে হবে।
তবে তেহরান বলেছে, আলোচনার শুরুতেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং সমুদ্রপথটিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
সূত্র: রয়টার্স
খুলনা গেজেট/এএজে
