

সাপাহারে বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন নওগাঁ-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী তিনি উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার সাদাত, সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন রেজা এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু)।
এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নেছারাবাদে ১০২টি পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনুদান ও উপহার বিতরণ
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলার ১০২টি পূজামণ্ডপে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেল ৩টায় নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক আহমেদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নেছারাবাদ উপজেলার ১০২টি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। দুর্গাপূজার আনন্দ শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নয়, এ আনন্দ আমাদের সবার। এ দেশ আমাদের সবার, আর এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা যারা সনাতন ধর্মাবলম্বী রয়েছেন, আপনারা এ দেশের নাগরিক। বিগত নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে ভোট দেওয়ায় আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আগামী দিনেও আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।” তিনি শারদীয় দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপনের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. ফখরুল আলম, নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আলহাজ আবদুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির তালুকদার, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান মানিক, স্বরূপকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম ফরিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ কাজী কামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাসান এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার ১০২টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের মধ্যে আর্থিক অনুদান ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ সহায়তা দুর্গাপূজার আয়োজনকে আরও সুন্দর ও উৎসবমুখর করতে ভূমিকা রাখবে।

আগুন লাগার পর মালিক তানভীরের পোষা কুকুর-বিড়ালসহ পালিয়ে যায় ১৯ কর্মী
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা, রান্নাঘরের গ্যাসের চুলায় চা বসিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে কর্মরত এক কর্মী। কিছুক্ষণ পর সেই রান্নাঘর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই ১০ শতক জমির ওপর নির্মিত রিসোর্টটির সবর্ত্র আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো ওই রিসোর্টে অবস্থান করা যশোরের একই পরিবারের চারজনের কোনো হদিস মেলেনি। প্রত্যক্ষদর্শী ও টুপটুপ রিসোর্টের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা জানা গেছে, আগুন লাগার পরপরই রিসোর্টটির প্রায় সব কর্মী ও কয়েকজন অতিথি দ্রুত বেরিয়ে পড়লেও বেশ কয়েকজন কক্ষে আটকা পড়েন। রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় ছিলো প্রতিষ্ঠানটির মালিকের পোষা দুটি কুকুর ও চারটি বিড়াল। আগুনের সূত্রপাত হলে রিসোর্টের ৪-৫ জন কর্মী প্রথমে সেই প্রাণীগুলো নিয়ে দ্রুত বাইরে চলে আসে বলে জানান এক প্রত্যক্ষদর্শী। টুপটুপ রিসোর্টের অদূরেই বসতঘর প্রত্যক্ষদর্শী সেই যুবকের। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়ে ঘুম ভেঙে যায়, বাইরে এসে দেখি টুপটুপ জ্বলছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪-৫ জন কর্মী কুকুর ও বিড়াল নিয়ে ছোটাছুটি করছেন, যেগুলো তাদের মালিক পুষতেন বলে জানতাম। তানভীরকে (মালিক) অসংখ্যবার কুকুরসহ বিচে হাঁটতে দেখেছি। অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনায় টুপটুপ রিসোর্টের সেই মালিক তানভীর সুলতান মিয়াকে ১নং আসামিসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে উখিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে, যার বাদী পুলিশ। তানভীরের ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদকেও আসামি করা হয়েছে এবং ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যায় আটক রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এক আসামির নাম প্রকাশ করা হয়নি। গ্রেপ্তারের আগে সুমন সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনিসহ রিসোর্টের ১৯ জন কর্মী সেখানে কর্মরত ছিলেন এবং আগুন লাগার পরপরই তারা প্রাণ বাঁচাতে বেরিয়ে পড়েন। এছাড়াও রিসোর্টের ৯টি কক্ষের ৬টিতে ২১ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন। ২০২২ সালের জুনে উখিয়ার ইনানী মৌজায় গিয়াস উদ্দিন গং থেকে প্রায় কোটি টাকা মূল্যে মেরিন ড্রাইভ লাগোয়া ১০ শতক জমি ক্রয় করেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা টিপু সুলতান মিয়ার ছেলে তানভীর সুলতান মিয়া। পরে বন্ধু নিয়াজ মোরশেদসহ সেই জমিতে টুপটুপ রিসোর্ট গড়ে তোলেন তিনি এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় যার ব্যবসায়িক কার্যক্রম। রিসোর্ট ব্যবসার পাশাপাশি তানভীরের রয়েছে সার্ফনেট নামে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। টুপটুপে অতিথিদের আর্কষণের জন্য পোষ্য কুকুর-বিড়ালের একটি সংগ্রহশালা বানিয়েছিলেন তিনি, যেখানে কেনি নামের ইতালিয়ান প্রজাতির ও কিয়ানা নামে আরেকটি জার্মান প্রজাতির কুকুর ছিল। এছাড়াও পার্সিয়ানসহ বিদেশি প্রজাতির কয়েকটি বিড়াল রাখা ছিল সেই সংগ্রহশালায়, পোষার পাশাপাশি তিনি প্রাণীগুলো ক্রয়-বিক্রয় করতেন বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তানভীর পলাতক রয়েছেন এছাড়াও তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর স্থাপনাটিকে অনিরাপদ উল্লেখ করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, তিনতলা কাঠের ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের স্থাপনা পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ।

কমলনগরে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার আলোর ভুবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান ও অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার উপজেলা সদর হাজিরহাটে প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোর ভুবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান হাওলাদারের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, হাজিরহাট বণিক সমিতির সভাপতি হাজি আইয়ুব আলী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম ও অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শফিক উল্যাহ। আলোর ভুবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা তানজিলা সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. মঈন উদ্দিন, হাজিরহাট সরকারি মিল্লাত একাডেমির সহকারী শিক্ষক মাইন উদ্দিন হিরন, মাওলানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমান, কুশাখালী এ্যানী চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইব্রাহীম, সাংবাদিক এআই তারেক, সমাজসেবক আজাদ উদ্দিন, শিক্ষার্থী হালিমা সুলতানা ও সিয়াম আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। এসময় তাঁরা সুশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের করণীয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। পরে আলোর ভুবন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ফাউন্ডেশন মেধা বৃত্তি পরীক্ষা এবং আলোর ভুবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী ১৩৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে সনদ, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

‘রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিতে সময় লাগবে এক মাস’
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল। তিনি বলেন, ‘ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে প্রিয়জনের মরদেহ বুঝে পেতে পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।’ আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে রোববার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা ১০টি মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় নমুনাগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি বলেন, ‘শুধু মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা করেই পরিচয় নিশ্চিত করা হবে না। নিহতদের বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা সন্তানের মতো নিকটাত্মীয়দের নমুনার সঙ্গে সেগুলো মিলিয়ে দেখা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ বলেন, ‘পরীক্ষার জন্য নমুনাগুলো ঢাকার মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’ রিমন ঘোষ আরও বলেন, ‘মরদেহগুলো থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’ রিপন জানান, তার পরিবারের চার সদস্য ইতোমধ্যে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে নমুনা দিয়েছেন। দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা শেষ করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে, স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহের অপেক্ষায় দুই দিন ধরে কক্সবাজারে রয়েছেন তার স্বামী ফয়সাল দেওয়ান। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে পরিচয় শনাক্তে প্রায় এক মাস লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা। ফয়সাল দেওয়ান বলেন, ‘আমি জানি, আমার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু আমি চাই না, আর কোনো স্বামীকে এভাবে তার স্ত্রীকে হারাতে হোক, আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজতে হাসপাতালে ছুটতে হোক।’

মৌলভীবাজারে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন সিলেট রেঞ্জের মাননীয় ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। সোমবার সকালে মৌলভীবাজার পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মনিরুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে ডিআইজি মহোদয় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আবাহন, ত্রিনয়নী, মহেশ্বরী ও কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি পূজামণ্ডপ এবং রাজনগর উপজেলার ঐতিহাসিক পাঁচগাঁও দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট সকলকে পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) নোবেল চাকমা, পিপিএম; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের; মৌলভীবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম; রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব এনামুল হক চৌধুরী এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।


