মাদকবিরোধী আস্তানায় খোদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বা প্রত্যাশার সম্পূর্ণ পরিপন্থী কোনো কাজে কেউ জড়িত হলে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ এখতিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে এবং তিনি ইতিপূর্বেও তা করে দেখিয়ে দিয়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি জোরালো ভাষায় এই মন্তব্যও করেন যে, এই রাষ্ট্রে বা আইনের চোখে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়ার যোগ্য নয়।
সোমবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সদ্য নির্মিত নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে আইনমন্ত্রী এই কথাগুলো বলেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতা বা অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, অতীতে যেভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকসমাজ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন, বর্তমান বিদ্যমান নিয়মেও তারা ঠিক একইভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। এই মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কোনো ধরনের বাধা নেই এবং এ বিষয়ে বিকল্প কোনো কঠোর ব্যবস্থা বা আইন পরিবর্তন করা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত কোনো সমাধান না আসা পর্যন্ত তারা নিয়মমাফিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে আইন সম্পূর্ণ আগের মতোই বহাল রয়েছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ আশাবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পরিবর্তন অবলোকন করা যাবে। সরকারের আন্তরিক কাজের সুবাদেই মানুষ তার বাস্তব প্রমাণ পাবে এবং এই পুরো প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
সারাদেশে নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বিভিন্ন সমালোচনা ও বিতর্কের বিষয়ে আইনমন্ত্রী জবাব দিয়ে বলেন যে, সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং নির্ধারিত নিয়মনীতি কঠোরভাবে অনুসরণ দেশের প্রতিটি প্রান্তে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পুরো নিয়োগ কার্যক্রমে বিন্দুমাত্র কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি হয়নি।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান কঠোর সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যে, বিরোধী দলগুলোকে রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে কোনো না কোনো ইস্যু বা বিষয়কে সবসময় সামনে নিয়ে আসতে হয়। নিছক বিরোধিতার খাতিরেই তারা নানা বিষয়ে সরকারের ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করে এবং তাদের প্রধান কাজই হলো অন্ধভাবে সরকারের বিরোধিতা করা। রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে সরকার যতই ভালো বা জনহিতকর কাজ করুক না কেন, তারা সবসময় তার বিরুদ্ধে কথা বলবে, যা বিরোধী দলের চিরাচরিত রাজনৈতিক বক্তব্য মাত্র এবং বর্তমান সরকার সেই ভিত্তিহীন কথায় বিশ্বাস করে না।
মন্ত্রী আরও বলেন যে, সরকার এসব সমালোচনায় কান দিয়ে নিজেদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না এবং যাদের সার বা অন্যান্য কৃষি উপকরণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই তাদের ন্যায্য ও প্রাপ্য অংশ সঠিকভাবে বুঝে পাচ্ছেন বলে সরকার পূর্ণ বিশ্বাস করে।
এর আগে সকালে মন্ত্রী ঝিনাইদহ জেলার দুশো পঞ্চাশ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। উক্ত হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা এবং সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করার বিষয়ে ওই সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
