খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) আট প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্পের কাজ না করে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের ১১ কোটি টাকা তুলে এফডিআর করার অভিযোগে মামলা দুটি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের পর খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে দুদক। সংস্থাটির ঢাকার অনুমোদন পাওয়ার পর রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি করা হয়। দুদকের উপসহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ঠিকাদার ছিল মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেড। তবে প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ না করে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারসহ আট প্রকৌশলীর যোগসাজশে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কাজ শেষ না করে ১৩ বছর ধরে প্রকল্পটি ঝুলিয়ে রাখায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ মামলার আসামিরা হলেন কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী সাবিরুল আলম, খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের লিড পার্টনার মো. আতাউর রহমান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্পের পার্টনার শেখ মাহাবুব রহমান এবং কেডিএর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ। অন্য আসামিরা হলেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান।
প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে দেখিয়ে ১১ কোটি টাকা উত্তোলন এবং অনুমোদন ছাড়াই ওই অর্থ এফডিআর করে রাখার অভিযোগেও দ্বিতীয় মামলাটি করা হয়েছে। এ মামলায়ও ওপরের আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক নির্মাণকাজে দীর্ঘ ১৩ বছরের বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপর দুদক তদন্ত করে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়।
