অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান শিক্ষাবিদ, ইতিহাস গবেষক। তিনি ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত ২১ অক্টোবর ছিল বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রায় তিন যুগের পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্জন, সম্ভাবনা, শিক্ষা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক আমাদের সময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রণজিৎ সরকার
আমাদের সময় : বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছর পূর্ণ করেছে। প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান : বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল বয়স, পেশা, আর্থসামাজিক অবস্থা ও ভৌগোলিক অবস্থান-নির্বিশেষে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। ১৯৯২ সালের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৩৪ বছর ধরে বাউবি তার লক্ষ্যপূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাউবির যাত্রা শুরু হয়েছিল একটিমাত্র একাডেমিক প্রোগ্রামের মাধ্যমে। কিন্তু সময়ের আবর্তে বর্তমানে সাতটি স্কুলের অধীনে ৫৫টি একাডেমিক প্রোগ্রামে তিন লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। মাধ্যমিক থেকে এমফিল ও পিএইচডি পর্যন্ত উচ্চশিক্ষা, পেশাভিত্তিক বিভিন্ন একাডেমিক প্রোগ্রাম ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাউবি শিক্ষার প্রসার ও মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, যারা প্রচলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ পান না, তাদের জন্য বাউবি শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। কর্মমুখী শিক্ষা ও শ্রমবাজারের চাহিদা মাথায় রেখে বাউবি চালু করছে ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (আইটিভেট) নামক একটি ইনস্টটিউট। লক্ষ্যপূরণে ৩৪ বছরের যে অর্জন তাকে আরও কার্যকর রূপদানে এখন আমাদের অঙ্গীকার- এমন একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে আগ্রহী সব মানুষ তাদের কাক্সিক্ষত শিক্ষার সুযোগ পাবেন।
আমাদের সময় : ‘সবার জন্য শিক্ষা’ ও ‘জীবনব্যাপী শিক্ষা’ দর্শন বাস্তবায়নে বাউবি কীভাবে কাজ করছে?
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান : বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দর্শন হলো- শিক্ষা হবে সবার জন্য উন্মুক্ত এবং তা চলবে জীবনব্যাপী। এ দর্শনের আলোকেই বাউবি একাডেমিক প্রোগ্রামগুলো সাজানো হয়। এখানকার শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হয় উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ এবং মিশ্র শিক্ষাপদ্ধতির (ব্লেন্ডেড লার্নিং) মাধ্যমে, যাতে করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো স্থান থেকে পড়াশোনা করতে পারেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং নিয়মিত শিক্ষার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বাউবি পরিচালিত শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার কার্যকর সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রীর সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাব্যবস্থার অটোমেশনের মাধ্যমে শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য, নমনীয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাউবির লক্ষ্য শিক্ষা যেন কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের বা জীবনের কোনো নির্দিষ্ট পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং প্রত্যেক মানুষ যেন যেকোনো সময় শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা বিকাশের দ্বারা ব্যক্তিজীবনে উন্নয়ন এবং জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখার সুযোগ পান।
আমাদের সময় : বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য কী পরিবর্তন এসেছে?
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান : আগেই বলেছি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা হয় স্কুল অব এডুকেশনের অধীনে বিএড প্রোগ্রাম পরিচালনার মাধ্যমে। বর্তমানে সাতটি স্কুলের অধীনে ৫৫টি একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। সময়ের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে আরও নতুন নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু প্রক্রিয়াধীন। গাজীপুরের মূল ক্যাম্পাস ছাড়াও দেশব্যাপী আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং স্টাডি সেন্টারের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হয়েছে। এটি কেবল শিক্ষার সুযোগকে আরও বিস্তৃত ও সহজলভ্যই করেনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিরও পরিচায়ক। উল্লেখ্য, বাউবির একাডেমিক নেটওয়ার্ক এখন কেবল দেশের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের বাইরে ৭টি দেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে রূপান্তরে কাজ করে যাচ্ছে। পাঠ্য সামগ্রী প্রণয়ন, অডিও-ভিজ্যুয়াল শিক্ষা উপকরণ তৈরি, টিউটোরিয়াল, পরীক্ষা পরিচালনা ও শিক্ষার্থীসেবা প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছে। তবে এখন বাউবির লক্ষ্য কেবল শিক্ষা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ নয়; বরং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও দক্ষ, সহজলভ্য ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বর্তমান প্রশাসন বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আমাদের সময় : কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নিশ-৩’ প্রোগ্রাম কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান : দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (ঞঠঊঞ)-এর গুরুত্ব বাড়ছে। বর্তমান সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের মধ্যে কর্মমুখী শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং শিল্পের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার সমন্বয়সাধনের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন সরকারের শিক্ষানীতির অন্যতম লক্ষ্য। কারণ এর মাধ্যমে তরুণদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এই বাস্তবতায় বাউবির একাডেমিক কার্যক্রমে ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (ওঞঠঊঞ) সংযুক্তির বিষয়টি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যবাহী। কারণ এর মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে ‘নিশ-৩’ প্রোগ্রামের আওতায় এসএসসি ও এইচএসসি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য তাদের চাহিদা এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে কার্যক্রমটি শুরু হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
আমাদের সময় : উদ্ভাবন, গবেষণা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে বাউবির বর্তমান উদ্যোগ কী?
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান : অবিরত চর্চার মাধ্যমে বিদ্যমান জ্ঞান বিকাশ ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনেও বাউবি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। বাউবি কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রকাশের জন্য কেন্দ্রীয় জার্নাল এবং সাতটি স্কুলের নিজস্ব জার্নাল প্রকাশের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষণার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য গবেষণার মানোন্নয়ন, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং সেই জ্ঞানকে শিক্ষা ও সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগানো।
আমাদের সময় : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল রূপান্তরের পরিকল্পনা কতদূর?
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও) ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল রূপান্তরকে আমরা অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছি। এ লক্ষ্যে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এনে অনলাইন ভর্তি ও নিবন্ধন, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী, পরীক্ষা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ব্যবস্থা জোরদার, মোবাইল অ্যাপ, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে অটোমেশন সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাদান ও শিক্ষার্থীসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার, শিক্ষকদের ডিজিটাল পেডাগজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বাউবির মিডিয়া সেন্টারের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য একে ক্যাম্পাস টিভিতে রূপান্তরিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাক্রম আধুনিকায়ন, শিল্প ও শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং মাইক্রোক্রেডেনশিয়াল প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত বলতে চাই, আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি নয়, বরং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাউবির শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য, নমনীয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানসম্মত ও কর্মমুখী করে তোলা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে প্রস্তুত করা।
আমাদের সময় : নারী, প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক ও কর্মজীবী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ কীভাবে বাড়ানো হবে?
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান : বাউবির দর্শন হলো- শিক্ষা সবার অধিকার। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে সমান সুযোগ ও বৈষম্যহীন পরিবেশের মাধ্যমে। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা নমনীয় ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার সম্প্রসারণ, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছি। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশগম্য শিক্ষাসামগ্রী, প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা এবং উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, নারীদের জন্য নিরাপদ ও নমনীয় শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, কর্মজীবীদের জন্য সুবিধাজনক সময়ে শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা পৌঁছে দিতে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোকে আরও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ও কার্যকর করে তোলার উদ্যোগকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা এবং পরামর্শসেবা সম্প্রসারণের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু শিক্ষায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা নয়, বরং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা অব্যাহত রেখে সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করা এবং কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীর পরিচয়, অবস্থান বা পরিস্থিতি নয়- তার শেখার আগ্রহ ও সক্ষমতাই হবে শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শক্তি।
আমাদের সময় : প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শিক্ষার্থীসেবার মানোন্নয়নে কী পদক্ষেপ প্রয়োজন?
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান : একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর প্রশাসন অপরিহার্য। বাউবির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ই-নথি ও প্রশাসনিক অটোমেশনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজ সহজ করা, সময় সাশ্রয় এবং সেবার স্বচ্ছতা বাড়ানো সম্ভব। অনলাইন ভর্তি, নিবন্ধন, পরীক্ষা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও কমবে। আমরা এমন প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে দ্রুত সেবা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
আমাদের সময় : আগামীতে বাউবিকে কোন অবস্থানে দেখতে চান? ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার কী?
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান : ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যা দক্ষিণ এশিয়াসহ আন্তর্জাতিক পরিসরে উন্মুক্ত শিক্ষার একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠবে। আমাদের লক্ষ্য হবে বয়স, পেশা, ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা আর্থসামাজিক পরিচয়-নির্বিশেষে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শেখার সুযোগ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার, শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়ন, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকাশকে অগ্রাধিকার দিতে চাই। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, একাডেমিক ও প্রশাসনিক সুশাসন এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমি বিশ্বাস করি, প্রযুক্তি হবে আমাদের আগামী দিনের অগ্রযাত্রার মাধ্যম, আর শিক্ষার্থীর সাফল্য হবে তার চূড়ান্ত মানদণ্ড। আমাদের স্বপ্ন, বাউবি শুধু সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
আমাদের সময় : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান : আপনাকেও ধন্যবাদ।
