৪৫তম বিসিএসে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটে স্থান পাননি সুমি আকতার।
আবেগতাড়িত হয়ে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ফেসবুক লাইভে এসে অঝোরে কেঁদেছেন তিনি। একই সঙ্গে তাকে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না করার কারণও জানান।
জানা যায়, সুমি আকতার এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বন ও পরিবেশবিদ্যা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৩.৮৮ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৯৯ অর্জন করেছেন। তার শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ৫ নম্বর ইউনিয়নে।
এম এ তাহের ফেসবুকে উল্লেখ করেছেন, সুমি ৪৫তম বিসিএসে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে মেধাক্রমে ১১তম এবং ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে মেধাক্রমে ৬৭তম হিসাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এরপরও ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে তার স্ত্রীর নাম নেই।
গত ১৪ অক্টোবর ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। এরপর শুক্রবার ফেসবুক লাইফে এসে অঝোরে কেঁদেছেন সুমি।
তিনি বলেন, সন্তান গর্ভে থাকাবস্থায় আমি বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। আমার অপরাধ কী? আমি কি রাষ্ট্রের সেবা করার অযোগ্য? সাত বছরের পরিশ্রম, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন কোথায়?
বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রলীগ নেতা এম এ তাহের। স্বামী এম এ তাহের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন সুমি।
ফেসবুকে সুমি লিখেছেন, দীর্ঘ সাত বছরের সাধনা, অসংখ্য নির্ঘুম রাত, ব্যক্তিগত ত্যাগ আর বুকভরা স্বপ্নের পর রাষ্ট্রের গেজেটে নাম না থাকাটা আমার কাছে শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং পরিবারকে ঘিরে গড়ে তোলা প্রত্যাশার ওপর বড় আঘাত।’
সুমি পোস্টে লিখেছেন, তিনি করুণা নয়, ন্যায়বিচার চান। চান তার প্রতি নেওয়া সিদ্ধান্তের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা। কোনো অভিযোগ থাকলে এর ন্যায্য মূল্যায়ন দাবি করে তিনি লেখেন, সিদ্ধান্তে অন্যায় হলে সেই অন্যায়ের প্রতিকার হওয়া উচিত।