কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি চীনা পপ ব্যান্ড ‘বেবি কুইন’-এর গায়িকা মিটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে দল থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ঘটনাটি জানার পর বিস্মিত হয়েছেন ভক্তরা। কারণ, তাঁদের অনেকেই জানতেন না, ব্যান্ডটি বাস্তব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি একটি কাল্পনিক সংগীতদল।
মিটি এক বিবৃতিতে জানান, দীর্ঘ চিন্তাভাবনা এবং কোম্পানি ও দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি আপাতত বিশ্রাম ও নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি নেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে দলের সদস্য ও কর্মীরা একসঙ্গে নতুন পরিবেশনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সবাই অনেক পরিশ্রম করেছেন, অথচ আমার কারণে পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়েছে। তাঁদের প্রচেষ্টাকে আমি অবহেলা করি না, দায়িত্ব থেকেও পালিয়ে যাচ্ছি না।’
‘আর্টিস্টস উইদাউট অটোটিউন’ নামের একটি ভাইরাল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের তথ্য অনুযায়ী, চীনের কে-পপ ভক্তদের একটি ছোট দল ‘বেবি কুইন’ তৈরি করেছে। চার সদস্যের ভার্চ্যুয়াল পরিচয় ও অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ায় নির্মাতারা মিটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কাহিনি তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে চরিত্রটিকে দল থেকে সরিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
২০২৬ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ওই ঘোষণাটি বাস্তব সংগীতশিল্পীদের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের বিবৃতির আদলে তৈরি করা হয়েছিল। অথচ মিটি একজন ভার্চ্যুয়াল চরিত্র।
এই ঘটনায় এআই-নির্ভর বিনোদন ও বিপণনের বিস্তারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় এআই চরিত্রের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। জনপ্রিয় স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটক ‘লায়েড-অব গার্ল’-এর ২০ বছর বয়সী এআই চরিত্র ফাং তাইজিও বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছে। বাস্তব তারকার মতো বিজ্ঞাপনে প্রতি মিনিটে ২৫ হাজার পাউন্ড পারিশ্রমিক নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘শিয়াওহাই’ নামের একটি এআই চরিত্রকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। অসহায় কিশোরের আদলে তৈরি চরিত্রটি বিজ্ঞাপনে পণ্য কেনার আবেদন জানাত। পরে অনলাইন ব্যবহারকারীরা তাকে প্রতারক হিসেবে ব্যঙ্গ করতে শুরু করেন। চীনা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কিছু বয়স্ক নারী চরিত্রটিকে বাস্তব মানুষ ভেবে তার কথিত নিজ শহরে সাহায্য করতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
এদিকে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর মতে, অসৎ উদ্দেশে এআই ব্যবহার করা হলে বিপুল প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরির গবেষণা এবং জৈব সন্ত্রাসের উদ্দেশে প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এ কারণে উন্নত এআই ব্যবস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নথিবদ্ধকরণ এবং কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। গেটসের মতে, এসব সুরক্ষাব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের অগ্রগতির ফলে মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা নাকচ করেছেন।
