অঙ্কন মুখোপাধ্যায়: আমাদের পাড়ার বটেশ্বর চাটুজ্যে বহু রান তুলে শেষমেষ মাঠ ছাড়লেন। নিরানব্বই রানে উইকেট পড়ল ওঁর। আর মাত্র ছ’টা মাস খেলে দিতে পারলেই সেঞ্চুরি করে ফেলতেন বটেশ্বর দাদু। পাড়ার সব থেকে বয়স্ক মানুষ ছিলেন দাদু। দাদুর বয়সি বাকি দাদুরা কবে পাততাড়ি গুটিয়েছেন ইহজাগতিক মোহ ছেড়ে। শুধু বটেশ্বর চাটুজ্যে প্রাচীন বটগাছের মতো ঝুরি নামিয়েই যাচ্ছিলেন এতকাল বিছানায় শুয়ে শুয়েই। এতদিনে বিছানা বদল হল ওঁর।
তবে দুঃখজনক বিষয় একটাই। শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করা গেল না বটেশ্বর চাটুজ্যের। মেজো নাতজামাইয়ের ছেলে ইউরেকা জয়েন্টে দুর্দান্ত রেজাল্ট করে ডাক্তারিতে চান্স পাওয়ায় বটেশ্বর চাটুজ্যে ইউরেকার কাছে একটু রাবড়ি খাওয়ার আবদার করেন। এটাই ছিল তাঁর শেষ ইচ্ছা। কিন্তু রাবড়ি বটেশ্বর চাটুজ্যের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই দাদুর আয়ুষ্কাল পূর্ণ হল। তাই শেষ ইচ্ছাটা অপূর্ণ রয়ে গেল দাদুর।
অবশ্য এর আগে গত সাড়ে সাত বছর ধরে বটেশ্বর চাটুজ্যে বহু শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন নানান জনের কাছে। একটা একটা করে মোট বাহান্ন রকম শেষ ইচ্ছা ছিল তাঁর। ইউরেকারটা ছিল বাহান্ন নম্বর। সরভাজা খেতে চেয়েছিলেন সেইবার ছোটো বউমার কাছে।
—ছোটো বউমা...
—বাবা?
—আমি তো এই আছি এই নেই হয়ে আছি। দেখতেই পাচ্ছ। তোমার বাপের ঘরের সরভাজা এ জন্মে আর বোধহয় খাওয়া হল না মা।
গোটা চাটুজ্যে বাড়ির জন্য স্পেশাল সরভাজা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন পরের দিনই ছোটো বউমার বাবা তারাপদ বটব্যাল। তারপর বড়ো শ্যালকের কাছে বটেশ্বর চাটুজ্যের শেষ ইচ্ছা ছিল, —ও হিমাংশু...।
—কন জামাইবাবু?
বটেশ্বর চাটুজ্যেকে দেখতে এসেছিলেন হিমাংশুবাবু খুলনা থেকে।
—আমি তো এই আছি, এই নেই হয়ে আছি। পদ্মার ইলিশ খাইনে কত দিন। তোমার দিদি থাকতে ইলিশ হত খুব...।
—বুঝেছি, জামাইবাবুর ইলিশ খাওনের মন গেছে গিয়া। জামাইবাবুর শ্যাষ ইচ্ছে, আমার দিদির শ্যাষ ইচ্ছের সমান। তা পূরণ করুম না আমি। হইব, ইলিশ হইব।
সেজো বোনের কাছে বটেশ্বর চাটুজ্যের শেষ ইচ্ছা ছিল লাল দই। —জানিস মান্তা, তোদের নবদ্বীপের দুটো জিনিস আমার বড়ো প্রিয়। এক ওই গৌরচাঁদ আর একটা হল রাঙা দই।
—তুমি দই খাবে দাদা?
—সে আশা কি আর পূরণ হবে এ জীবনে। এই তো দেখছিস আমাকে। আমি তো এই আছি এই নেই হয়ে আছি...।
বিছানায় শুয়ে শুয়েই সে বার এক ভাঁড় লাল দই সাবড়েছিলেন বটেশ্বর চাটুজ্যে। আবার একবার জয়নগরের বন্ধু অমরনাথের ছেলে সোমনাথ বটেশ্বর চাটুজ্যের অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে দেখতে এলে তাঁর কাছে শেষ ইচ্ছা ছিল, মোয়া।
—অমর থাকতে মোয়া খেয়েছি বুঝলে। কনকচূড় ধানের মোয়া। এখন অমরও নেই, আর আমি তো এই আছি, এই নেই হয়ে আছি...।
বটেশ্বর চাটুজ্যের শেষ ইচ্ছার লিস্ট ছিল বেশ বড়ো। আমাদের পাড়ার মানু ময়রার কাছেও তো কিছু মাস আগে জিলিপি খেতে চেয়েছিলেন। মানু ময়রা স্পেশাল করে জিলিপি ভেজে দিয়ে এসেছিল বটেশ্বর দাদুর হাতে।
—এখন কেমন রয়েছেন কাকাবাবু?
—আমি তো এই আছি এই নেই হয়ে আছি মানু...।
বাঁধানো দাঁত দিয়ে জিলিপিতে কামড় বসিয়ে বলে ওঠেন বটেশ্বর চাটুজ্যে।
শুধু বটেশ্বর দাদুর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি মেজো নাতজামাইয়ের হবু ডাক্তার ছেলে ইউরেকা।
বটেশ্বর দাদুর ছোটো নাতি ধীমান আমার বন্ধুসম। খবর দিয়েছিল শেষকাজে সঙ্গে যাওয়ার জন্য। গলায় গামছা ফেলে সঙ্গে সঙ্গে ছুটলাম বটেশ্বর দাদুদের বাড়ির দিকে। সেখান থেকে আবার শ্মশান ঘাট।
শ্মশান গেলে আমার আশ্চর্য লাগে! মানুষের সব অহংকারের পতন হয় এখানে। সব লোভের বিনাশ ঘটে। ভালোবাসার মিলনও এই শ্মশান। অহংকার, লোভ, বিদ্বেষ, ভালোবাসা, মায়া সব একসঙ্গে মিশে ভেসে যায় গঙ্গায়। আমি বসেছিলাম গঙ্গার ঘাটের একটা সোপানের উপর। সামনে পুণ্যবতী মা গঙ্গা! বটেশ্বর দাদুর মতো প্রতিনিয়ত কত প্রাণ মিলিয়ে যাচ্ছে এইখানে! পলকে পলকে ঘটছে জীবনের সবচেয়ে বড়ো সত্যের খেলা!
এক সময় আমার চোখ গিয়ে পড়ল জলের উপর একটি বিশেষ স্থানে। আশ্চর্য হয়ে দেখলাম শেষ সূর্যের আলো ডুবল যখন, তখনই জল থেকে উঠে এলেন আশ্চর্য সেই মানুষটি, বিচিত্রবাবু! গঙ্গা স্নান সেরে পায়ে পায়ে ঘাটে উঠে এসে পরতে লাগলেন ওঁর ছেড়ে রাখা পোশাক।
আমি বিস্মিত হয়ে প্রায় ছুটে ছুটে এগিয়ে গেলাম ওঁর কাছে।
—বিচিত্রবাবু আপনি এখানে? এখন?
আমাকে একবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত জরিপ করে নিলেন প্রথমে মনে হল। তারপর খুব স্বাভাবিক কণ্ঠে উনি বললেন, ‘এই উন্মুক্ত আকাশের নীচেই তো আমার অবস্থান। এতে এত আশ্চর্য হওয়ার কী আছে ভায়া?’ ফতুয়াটা গায়ে গলিয়ে নিয়ে গামছা দিয়ে মাথা মুছতে লাগলেন বিচিত্রবাবু।
—বরং আমিই তো আশ্চর্য হচ্ছি তুমি এই সন্ধ্যায় শ্মশান ঘাটে কেন সেটা ভেবে? তুমি তো আর আমার মতো পরিব্রাজক নও।
—বটেশ্বর দাদুকে মনে আছে আপনার?
—আমাদের পাড়ার বটেশ্বর চাটুজ্যে? অম্বিকা চাটুজ্যের বাবা?
—হু, উনি আজ দুপুরে গত হয়েছেন। তাই শবযাত্রী হয়ে আমার এখানে আসা।
—বটেশ্বর কাকা চলে গেলেন! দীর্ঘশ্বাস ফেললেন বিচিত্রবাবু, —বয়স কত হয়েছিল?
—একশোর কাছাকাছি। দীর্ঘদিন ভুগছিলেন। শেষ একটা সপ্তাহ বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেননি আর।
—একসময় বটেশ্বর কাকাকে দেখেছি। সে কী চেহারা! পাড়ার ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন। কত সিল, মেডেল জিতেছেন উনি। আর আজ... এই তো জীবন! চল ভায়া তোমাদের সঙ্গেই ফেরা যাক তবে।
বিচিত্রবাবু আমাদের সঙ্গে ভিড়ে গেলেন।
‘বিচিত্র’ নামটার মতোই বড়ো বিচিত্র উনি। পাড়ার লোকেদের সঙ্গে বিচিত্রবাবুর তেমন মেলামেশা নেই। পাড়ায় থাকেনও না বিশেষ। এদেশ-সেদেশ করে বেড়ান প্রায় সারা বছর জুড়েই। ওঁর পায়ের তলায় সরষে। ন’মাসে, ছ’মাসে একবার করে দর্শন দেন। পাড়ায় বিশেষ না মিশলেও আমার সঙ্গে বিচিত্রবাবুর একটা গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে কী জানি, কেমন করে যেন! আমাদের বয়সের পার্থক্য অনেকখানি অবশ্য। কিন্তু বন্ধুত্বের বয়স মাপা যায় না। তাই ওঁর সকল বিচিত্র কাণ্ডের একমাত্র সাক্ষীও হলাম আমি।
বটেশ্বর দাদুর কাজ সম্পন্ন করে ফিরতে ফিরতে রাত ন’টা হয়ে গেল আমাদের। পাড়ায় ঢুকতেই আগে পড়ে বিচিত্র ভবন, অর্থাৎ বিচিত্রবাবুর বাড়ি। তারপর বটেশ্বর দাদুদের বাড়ি। সব শেষে আসে আমার বাড়ি। বিচিত্রবাবু নিজের বাড়ির তালা খুলে ভিতরে ঢুকলেন। পিছনে পিছনে আমি। বহুদিন পর অদ্ভুত ভাবেই দেখা হল আবার মানুষটার সঙ্গে। ভাবলাম, ডাকছেন যখন, তখন একটু বসেই যাই। বিচিত্রবাবু বললেন, ‘রাত শেষ মানেই তো একটা দিন ফুরিয়ে গেল জীবন থেকে। প্রতিটা সময়কে কাজে লাগাও।’
টুকরো টুকরো কাজ করে নিয়ে বিচিত্রবাবু চা করে নিয়ে এসে বসলেন চেয়ারে।
—চা পেলেন কোথায়? বাড়িতে মজুত ছিল?
—আমার ওই কাঁধের ঝোলা, ওতেই মজুত করে এনেছিলাম।
চা খেতে খেতে গল্প হল নানান। বিচিত্রবাবুর দেশ ভ্রমণের গল্প, অজানা জায়গার অভিজ্ঞতার কথা, অজানা মানুষজনের সঙ্গে মেলামেশার ঘটনা বললেন উনি। রাত বাড়ল আরও। কিন্তু বিচিত্রবাবুর গল্পের শেষ নেই কোনো। ঘড়ির দিকে তাকালাম, সাড়ে এগারোটা বেজেছে।
—এবার উঠতে হবে বিচিত্রবাবু। এখন তো থাকবেন কিছু দিন। দেখা হচ্ছে।
—চল তোমাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসি তাহলে।
—না, না, তার দরকার হবে না বিচিত্রবাবু।
বিচিত্রবাবু তবুও আমাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য বাড়ির গেট পর্যন্ত এলেন। কিন্তু রাস্তায় নেমে কেমন অস্বস্তি বোধ করতে লাগলাম। বড়ো বেশি নির্জন মনে হল চেনা পাড়াটা। পরিবেশটাও বেশ ছমছমে হয়ে উঠেছে। ঝিমঝিম অন্ধকার পাড়ার বাড়িগুলোর গায়ে গায়ে। অন্যদিন হলে পথ কুকুরগুলো শুয়ে থাকে রাস্তার এদিক সেদিক। আজ কোনো জনপ্রাণীর দেখা নেই কোথাও। বটেশ্বর দাদুর বাড়ির সামনের ল্যাম্পপোস্টের আলোটা দপ দপ করে কাঁপছিল। দূর থেকে দেখলাম বটেশ্বর দাদুর বাড়ির সামনের ঢালাই রাস্তাটা অন্ধকারে ঢেকে গেল দপদপে আলোটা সম্পূর্ণ নিভে যেতেই। পাশের পাড়া থেকে একটা কুকুর করুণ সুরে ডেকে উঠল ঠিক এইসময়। ওই রাস্তা দিয়ে যেতে হবে ভেবেই বারবার বটেশ্বর দাদুর মুখটা মনে পড়তে লাগল। রোম খাড়া হয়ে গেল আমার নিজের অজান্তেই। বারবার বটেশ্বর দাদুর মুখটা ভেসে উঠছে আজ। যেন ওই ঝিম ঝিম অন্ধকারেই ওত পেতে আছেন সে! ‘বল হরি হরি বোল’ সুরটা ভেসে বেড়াচ্ছে যেন এখনও সারা পাড়া জুড়ে। সাহস হল না আর এগনোর। ফিরে গেলাম আবার বিচিত্রভবনে।
—প্রথমেই তো বললাম ভায়া। এগিয়ে দিয়ে আসছি। তুমি জেদ করলে।
—আপনি আজকেই ফিরলেন। এসেই একটা শোক সংবাদ... তার উপর এতটা রাত...
—তাতে কী হয়েছে ভায়া? চল এগিয়ে দিয়ে আসি তোমায়।
সত্যি মানুষের সান্নিধ্য লাভে সাহস বাড়ে। বিচিত্রবাবু সহজে আমাকে ছাড়লেন না। বটেশ্বর দাদুর বাড়ি পেরিয়ে একেবারে আমার বাড়ির দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে গেলেন। ধন্যবাদ জানিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়ি ঢুকে পড়লাম আমি। নিজের বাড়িতে এসে মনে হল খামোখা ভয় পাচ্ছিলাম আমি। জুতো জোড়া রেখে হাত-পা ধুতে যাব এমন সময় আমার দরজায় টোকা পড়ল। দরজা খুলে দেখি বিচিত্রবাবু দাঁড়িয়ে আছেন কাঁচুমাচু মুখে।
—একি বিচিত্রবাবু। যাননি যে!
—হয়েছে কী, বটেশ্বর কাকার বাড়ির আগে, যেতে গিয়ে হাতের টর্চটা হঠাৎ নিভে গেল। মানুষের মায়া কাটাতে সময় লাগে। কাকা আজকেই গেছেন কি না। বুঝতেই পারছ। একটু যদি এগিয়ে দিতে ভায়া।
—হ্যাঁ, হ্যাঁ কেন নয়। আপনি আমাকে এগিয়ে দিলেন, আমি এটুকু করব না আপনার জন্য!
জুতো জোড়া পায়ে গলিয়ে নিয়ে বিচিত্রবাবুকে এগিয়ে দিতে গেলাম।
বটেশ্বর দাদুর বাড়ি পেরিয়ে আবার বিচিত্রভবনের সামনে গিয়ে হাজির হলাম। বিচিত্রবাবু আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ওঁর বাড়ির গেট খুলে ভেতরে চলে গেলেন নিশ্চিন্তে। ফিরে আসতে গিয়েই আমি আবার পড়লাম অকূল সাগরে। সেই ঝিম ঝিম অন্ধকারে ‘বল হরি’ সুরটা যেন খেলে বেড়াচ্ছে আবার। বিচিত্রবাবুকে না ডেকে উপায় থাকল না আমার। দরজা খুলে পুনরায় বেরিয়ে এলেন বিচিত্রবাবু।
—ভয় কী আমি তো আছি। চল পৌঁছে দিয়ে আসি তোমায়। তুমি আমাকে পৌঁছে দিলে, আর আমি যাব না তোমার বেলায়, তা কি হয়? চল।
বিচিত্রবাবুকে সঙ্গী পেয়ে সাহস ফিরে পেলাম আবার। অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে বিচিত্রবাবু আমাকে পৌঁছে দিলেন আমার বাড়ি। পুনরায় ধন্যবাদ দিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়লাম আমি। কিন্তু এবার আর জুতো জোড়া খোলার প্রয়োজন হল না। জানলার কাছে বিচিত্রবাবুর ডাক শুনে বেরিয়ে পড়লাম পুনরায়।
—কী বল তো ভায়া। দেশে দেশে ঘুরলেও সব কি জানা যায়। জীবন বড়ো রহস্যময়। ঠিক ওই বটেশ্বর কাকার বাড়িটা ঘিরে ধরা অন্ধকারের মতোই রহস্যময়। বলছি কি...।
আর বলতে হয় না বিচিত্রবাবুকে কিছু। আমি পুনরায় বিচিত্রবাবুকে পৌঁছে দিই ওঁর ভবনের সামনে। উনি পুনরায় ধন্যবাদ দেন আমাকে। তারপর উনি আসেন পুনরায় আমাকে পৌঁছে দিতে আমার বাড়ি পর্যন্ত। আমি বাড়ি ফিরে পুনরায় ধন্যবাদ জানাই ওঁকে। ধন্যবাদ জানিয়ে পুনরায় বিচিত্রবাবুকে পৌঁছে দিই ওঁর বাড়িতে। পুনরায় বিচিত্রবাবু ধন্যবাদ জানান আমাকে এবং পুনরায় উনি বাড়ি পৌঁছে দিতে আসেন এবার আমাকে। বাড়ি ফিরে পুনরায় বিচিত্রবাবুকে ধন্যবাদ জানাই এবার আমি।
পুনরায় বিচিত্রবাবুকে পৌঁছে দিই ওঁর ভবনের সামনে। বিচিত্রবাবু পুনরায় ধন্যবাদ জানান এবার আমাকে। পুনরায় ধন্যবাদ গ্ৰহণ করি আমি এবং পুনরায় আমাকে পৌঁছে দেন বিচিত্রবাবু আমার বাড়িতে। আমি ওঁকে ধন্যবাদ জানাই পুনরায়। এইভাবে পুনরায় পুনরায় একে অপরকে পৌঁছে দিয়ে আর পুনরায় পুনরায় একে অপরকে ধন্যবাদ জানিয়ে সারাটা রাত কাটে আমাদের।
যখন সকাল হয়, দেখি আমি আর বিচিত্রবাবু ওই বটেশ্বর দাদুর বাড়ির সামনের চৌকাঠের উপরেই শুয়ে আছি।
