পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্লাস চলাকালীন বহুতল ভবনটির ছাদ ভেঙে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৭ জন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগেরই বয়স ১৩ বছরের কম। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
পেশোয়ারে বেসরকারিভাবে পরিচালিত আল-খায়ের এডুকেশন সেন্টার নামে স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে নামেন। নিখোঁজ শিশুদের খোঁজে ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে চেষ্টা চালান উদ্ধারকারীরা।
জেলা জরুরি কর্মকর্তা ইফতিখার খান বলেন, আমরা অন্তত ৪৫ জন শিশুকে উদ্ধার করেছি। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কিছু শিশু আটকে পড়ে আছে বলে জানান তিনি।
সরকারি কর্মকর্তা বিলাল ফাইজি জানান, উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করে যাচ্ছে যাতে ধ্বংসস্তূপ থেকে দ্রুত সবাইকে উদ্ধার করা যায়। শহরের লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম জানান, এখন পর্যন্ত তাদের হাসপাতালে ২০ জন আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে।
এক উদ্ধারকারী কর্মকর্তা জানান, ভবনের একদম উপরের তলার ছাদটি হঠাৎ ধসে পড়লে নিচের দুটি তলাই একযোগে ভেঙে পড়ে। সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর ভারী ছাদ ও কাঠামোর ধ্বংসস্তূপ আছড়ে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পেশোয়ারের পুলিশ প্রধান মিয়ান সাঈদ জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনটি শ্রেণিকক্ষে সব মিলিয়ে ১১০ জন শিক্ষার্থী ছিল। তার মধ্যে মাত্র ৪৭ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, ভবনটির কাঠামো দুর্বল ছিল। দুর্বল কাঠামোর ওপর নির্মাণকাজের অতিরিক্ত ওজনের কারণে এটি ধসে পড়েছে।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এ দুর্ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: সিএনএ
কেএম
