জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, মায়েদের নামে হবে ফ্যামিলি কার্ড। মায়েরাই এই সুফল ভোগ করবেন। মায়েদের দুইটা সন্তানসহ তালাক দিবা, সেই সুযোগ আর নাই। তালাক বন্ধ করেছে এই ফ্যামিলি কার্ড।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বরগুনার সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘তারেক রহমান গ্রামে গঞ্জে ঘোরেন, স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। একটা মানুষের কি কষ্ট সেটা বোঝার চেষ্টা করেন। তাকে তারেক জিয়া না বলে আপনারা যদি বলেন, আরেক জিয়া সেটা ঠিক। উনি তারেক জিয়া না উনি আরেক জিয়া। একটা মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য যা যা করা দরকার তিনি তা সবটাই করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার বক্তব্য জিয়াউর রহমান খুনি, খালেদা জিয়া খুনি এবং তারেক রহমান খুনি এটা শেখ হাসিনার বক্তৃতা। এরপরই তারেক রহমানের একটা বক্তব্যে আছে, তিনি বক্তব্যে বলেছেন, ‘‘আমি যদি আমার মায়ের কাছে প্রশ্ন করতাম, মা তোমাকে দুঃসময়ে এতো যন্ত্রণা দিয়ে কষ্ট দিয়ে মিথ্যা বলে মামলা মোকদ্দমা দিয়ে তোমাকে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিছিল তুমি মারা যাচ্ছ। এরকম সময়ে আমার প্রতিশোধ নেয়ার শক্তি আছে আমি প্রতিশোধ নেব কি-না?’’
চিফ হুইপ আরও বলেন, তনি (তারেক রহমান) উত্তর দিয়ে বলেছেন, ‘‘আমার মা নিশ্চয়ই বলতেন, এই দেশ গঠনের জন্য তোমার অনেক কাজ আছে। প্রতিশোধ নেয়ার সময় নয়। যদি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করতাম একই উত্তর পেতাম।’ এই হল তারেক রহমান আর এই হল শেখ হাসিনা। আমি ক্ষমতা চাই, ক্ষমতায় থাকতে চাই এই হল শেখ হাসিনা। আর উনি (তারেক রহমান) বলেন, ‘‘মানুষ যদি মনে করেন আমি যোগ্য, মানুষ যদি মনে করেন আমি তাদের পাশে আছি, তারা যদি মনে করে আমি তাদের কাজ করি এবং বিশ্বাস করে যদি আরেকবার ভোট দেয়, ইনশাআল্লাহ আমি থাকবো।’’
চিফ হুইপ তারেক রহমানের বিষয়ে বলেন, ‘আপাত মস্তক উনি (তারেক রহমান) একজন কর্মঠ মানুষ। আপাত মস্তক একজন মানব দরদী মানুষ। সকালবেলা একদিন আমি তার সঙ্গে দেখা করতে তার আগে অফিসে যেতে চেয়ে গিয়ে দেখি তিনি গাড়িতে উঠে বসে আছেন। আমি তার আগে যেতে পারিনি। এই যে তারেক রহমান সাহেব রাত জেগে সজাগ থেকে কাজ করেন কার জন্য? সরকারের প্রথম সিদ্ধান্ত কৃষকের ১০ হাজার টাকার সুদসহ ঋণ মওকুফ। এটা কি উপকার হয়নি? আপনারা এটাকেই বড় করে দেখেন যে, আমরা এমন একজন নেতা পেয়েছি যিনি কৃষকের কথা ভাবেন। উনি (তারেক রহমান) ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন, এই সকল মেয়েদের যে সকল মানুষরা তাকে ভোট দেয়নি অথবা দিয়েছেন এমন কোনো কথা না ভেবে। গরীব, অসহায় এবং স্বামী তালাক দিয়ে চলে যায় সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন এমন ৫০ লাখ মানুষকে তিনি ফ্যামিলি কার্ড দিবেন। তিনি বলেছেন, আপনারা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সম্পদ পাবেন। চাল-ডাল কিনে সন্তানরা খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারবে। এবং ওই সন্তানরা যাতে মানুষ হয় এর জন্য মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করেছেন। ফ্রি বই এবং শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ইংরেজি দক্ষমতার জন্য আলাদা প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করেছেন। নিজে কাজ শিখে কাজ করতে পারে এবং আরেকজনকে কাজ শিখাতে পারে এজন্য তিনি ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশে সকল শিক্ষার্থারা কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হবে।’
চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘আমরা দেশটাকে বাঁচাতে চাই। তারেক রহমান সাহেব দেশটাকে বাঁচাতে চায়। এই জন্য ফ্যামিলি কার্ড। এই জন্য মা বোনদের ক্ষক্ষমতায়ীত করতে চান, শক্তিশালী করতে চান। এবং সমাজে যে তারা মানুষ সেই মানুষ হিসেবে গণ্য করতে তিনি ব্যবস্থা করছেন। তার মা খালেদা জিয়া এদেশের সকল মায়েদের লেখাপড়া ফ্রি করে দিয়েছেন। তিনি আগাগোড়াই এ দায়িত্ব পালন করেছেন। এবং এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে এমএ পর্যন্ত যদি কোনো মেয়ে লেখাপড়া করতে চায়, সকল খরচ সরকার দিবে। মায়েদের শিক্ষিত বানাবে, যাতে ভবিষ্যতে সন্তানরা শিক্ষিত হয়।’
