রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন একটি চিহ্নিত মাদকের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পরে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
শনিবার এ-সংক্রান্ত দুটি ভিডিও নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন ইশরাক। ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর হাতে একটি পিস্তলও দেখা গেছে। তবে ভিডিওতে অস্ত্রটির কিছু অংশ ঝাপসা করে দেখানো হয়েছে।
অভিযানে প্রতিমন্ত্রীর হাতে পিস্তল থাকার কারণ এবং সেটি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে থানার পুলিশও বিস্তারিত জানে না বলে জানিয়েছে।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান যুগান্তরকে বলেন, ‘অভিযানের বিষয়ে আমরা কিছু জানতাম না। আমাদের বিস্তারিত কিছু জানানোও হয়নি। পরে খবর পেয়ে আটক ছয়জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়।’
প্রতিমন্ত্রীর হাতে পিস্তল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘আমরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখেছি। কিন্তু আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।’
এদিকে ইশরাকের মিডিয়া সেলের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তাঁর শাস্তি আরও কঠোর হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো টাইম নেই। এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তাদের শাস্তি পেতে হবে।’
মাদকাসক্তির কারণে তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই মাদকের কারণে আমাদের তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গত ছয় মাস ধরে গোয়েন্দা দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। যারা বাইরে থেকে এসে মাদক দিয়ে যায়, তাদের আটক করতে পারবে। এমন ব্যক্তিদের আমার মাথায় করে রাখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে। বাংলাদেশে কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।’