বাগেরহাটের চিতলমারী থেকে নিখোঁজ হওয়া সাংবাদিক প্রিন্স মন্ডল অলিফের ছেলে প্রিতম মন্ডলকে (১৬) নরসিংদী থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১১ ও চিতলমারী থানা পুলিশের যৌথ দল।
দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে। গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার কাঠালিয়া এলাকার একটি বাসা থেকে প্রিতমকে উদ্ধার করা হয়। পরে নরসিংদীতে র্যাব-১১ কার্যালয়ে নেওয়ার পর পুলিশের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রিতম চিতলমারী সরকারি এস এম মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা প্রিন্স মন্ডল অলিফ দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার, দৈনিক বাংলাদেশ ডায়েরি, কাল প্রকাশ অনলাইন ও বিডি মেইল ২৪ অনলাইনের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রিন্স মন্ডল অলিফ জানান, গত ১৫ অক্টোবর বিকেলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় প্রিতম। নির্ধারিত সময় পার হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছেও খোঁজ নেওয়া হয় কিন্তু তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে চিতলমারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা। জিডি নম্বর ৮৩২। ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল পরিবার।
প্রিতমকে খুঁজে পেতে স্বজনেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। পরিবার জানান, প্রিতমকে ফুসলিয়ে বা প্রলুব্ধ করে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে কীভাবে তাকে নরসিংদীতে নেওয়া হয়েছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিত নয়।
নিখোঁজের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি তাকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ে। একপর্যায়ে র্যাব-১১ ও চিতলমারী থানা-পুলিশ সমন্বিত অভিযান চালিয়ে নরসিংদীর কাঠালিয়া এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে এম মাসুমের তত্ত্বাবধান এবং উপপরিদর্শক (এসআই) শাকিলের নেতৃত্ব ও তৎপরতা উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফায়জুল ও এএসআই আজাদও অভিযানে অংশ নেন।
উদ্ধারের পর প্রিতমকে প্রথমে র্যাব-১১ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রিতমকে উদ্ধারে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসক সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে তারা চিতলমারী থানা-পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। এ ছাড়া নিখোঁজের খবর প্রচার করে প্রিতমকে খুঁজে পেতে সহায়তা করায় জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে পরিবার।
তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, প্রশাসনের সমন্বয় এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার সম্মিলিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়ক হয়েছে।
সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে প্রিন্স মন্ডল অলিফ ও তার পরিবার র্যাব-১১, চিতলমারী থানা-পুলিশ, বাগেরহাট জেলা পুলিশ, পিবিআই, জেলা প্রশাসন এবং সংবাদ প্রচারে সহযোগিতাকারী সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বিআলো/আমিনা