খেলা: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫০টি ক্যাচ ধরার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ভারতের তরুণ ক্রিকেটার তিলক ভার্মা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জোড়া ক্যাচ নিয়ে এই কীর্তি গড়েন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ভারতের দুই তারকা রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ক্যাচের মাইলফলকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিলক।
গত কয়েক মাসে ভারতীয় দলের ফিল্ডিং, বিশেষ করে ক্যাচ ধরার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন ম্যাচে ক্যাচ ছাড়ার ঘটনা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারও এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিলকের ধারাবাহিক ফিল্ডিং ভারতীয় দলের জন্য ইতিবাচক দিক হয়ে উঠেছে।
ইন্দোরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নেন তিলক ভার্মা। প্রথমে নীতীশ রেড্ডির বলে কুইন্টন স্যাম্পসনের ক্যাচ ধরেন তিনি। পরে অর্শদীপ সিংয়ের বলে কিমো পলের ক্যাচ নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের ক্যাচসংখ্যা ৫০-এ পৌঁছে দেন এই ভারতীয় ক্রিকেটার।
এর মধ্য দিয়ে ভারতের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫০ ক্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিলক।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ধরার তালিকায় রয়েছেন রোহিত শর্মা। এরপর আছেন হার্দিক পান্ডিয়া, সূর্যকুমার যাদব ও বিরাট কোহলি। তাঁদের পরই রয়েছেন তিলক ভার্মা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রিকেটারদের ক্যাচসংখ্যা হলো—
রোহিত শর্মা ৬৫টি ক্যাচ।
হার্দিক পান্ডিয়া ৬৪টি ক্যাচ।
সূর্যকুমার যাদব ৫৮টি ক্যাচ।
বিরাট কোহলি ৫৪টি ক্যাচ।
তিলক ভার্মা ৫০টি ক্যাচ।
শুধু মোট ক্যাচের সংখ্যায় নয়, ম্যাচের তুলনায় ক্যাচ ধরার হারেও নজর কেড়েছেন তিলক। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৬৮ ম্যাচে ৫০টি ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। ম্যাচপ্রতি তাঁর ক্যাচ ধরার হার ০.৭৫৭, যা ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের ক্রিকেটারদের তালিকায় এই হিসাবে তিলকের অবস্থান দ্বিতীয়। শীর্ষে রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুহাম্মদ ওয়াসিম। ৯৯ ম্যাচে ৭৬টি ক্যাচ নিয়ে তাঁর ম্যাচপ্রতি ক্যাচ ধরার হার ০.৭৬৭।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ হওয়ায় পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে এই পরিসংখ্যানে তিলক ভার্মা শীর্ষে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তিলকের এই মাইলফলক আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ফিল্ডিং দক্ষতার ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও দলের জন্য অবদান রাখার মাধ্যমে ভারতীয় দলে নিজের গুরুত্ব আরও তুলে ধরছেন এই তরুণ ক্রিকেটার।
