ঢাকার সাভার উপজেলায় দুর্গা পূজা উপলক্ষে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তবে বরাদ্দের সেই চাল ‘কম দামে জোর করে’ কিনে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাভার পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর রফিকুল ইসলাম সানীর বিরুদ্ধে।
মণ্ডপপ্রতি ৬০০ কেজি চালের বদলে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকটি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ১০৪টি পূজামণ্ডপ থেকে চাল কেনার কথা জানান সানী। তবে তার দাবি, “কোনো মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ যদি চাল আমার কাছে বিক্রি না করে নিতে চায়, নিতে পারবে। আমি আটকাব না।”
তবে অন্য কোথাও চাল বিক্রি করতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উপজেলায় এবার ২৩৮টি পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দপত্র নিয়ে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করতে পারবেন।
কয়েকটি মণ্ডপের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, বরাদ্দপত্র পাওয়ার পর সানী ও তার লোকজন তাদের কাছ থেকে বাজারদরের চেয়ে কম দামে জোর করে চাল কিনে নিচ্ছেন। এতে বাধা দিলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরে বাধ্য হয়ে তারা চাল বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেন।
পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা বলেন, এবার চালের বরাদ্দ বাড়ায় তারা বেশি সহায়তা পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু ৬০০ কেজি চালের বদলে তাদের ২০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। বাজারে চাল বিক্রি করতে পারলে আরও বেশি টাকা পাওয়া যেত বলে মনে করেন তারা।
এলাকায় কৃষকদল নেতার প্রভাব থাকায় এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
মণ্ডপ প্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে ১৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এবার চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়লেও তারা বাড়তি টাকা পাচ্ছেন এক হাজার।
প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি চালের দাম ৬০ টাকা ধরলে ৬০০ কেজি চালের মূল্য দাঁড়ায় ৩৬ হাজার টাকা। সে হিসাবে ২০ হাজার টাকার সঙ্গে ব্যবধান ১৬ হাজার টাকা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মীর রফিকুল ইসলাম সানী বলেন, “সাভারের পাশের উপজেলাগুলো যেভাবে টাকা দিচ্ছে, আমিও সেভাবেই টাকা দিচ্ছি। আমি তো আর বাড়তি টাকা দিতে পারি না।”
সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ফাইজুল ইসলাম বলেন, “সাভার উপজেলায় ২৩৮টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে সাভার পৌরসভায় তিনটি মণ্ডপে এবার পূজা হবে না। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ১৩০টি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চালের বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ বরাদ্দের চাল নিয়ে বিক্রি করতে পারেন, আবার নিজেরাও নিয়ে যেতে পারেন। এটা তাদের সিদ্ধান্ত। চাল বিক্রির বিষয়টি আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি না। মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ যেখানে ভালো দাম পাবেন, সেখানেই বিক্রি করবেন। এ বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই।”
তার কার্যালয়ে বসে চাল বিক্রি বা টাকা লেনদেনের ঘটনাও ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
সাভার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস বলেন, “আমরা সরকারি বরাদ্দের বরাদ্দপত্র দিয়ে দিচ্ছি। এখন মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ তাদের চাল বিক্রি করবেন কি না, সেটা তাদের একান্ত বিষয়। আমাদের মণ্ডপের জন্য আমরা যে বরাদ্দ পাব, তা যেখানে বেশি টাকা পাব, সেখানেই বিক্রি করে দেব। কারণ, এই চাল পূজায় ব্যবহার হবে না। আমাদের আরও ভালো মানের চিকন চাল লাগবে।”
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “পিআইও কার্যালয়ে বসে পূজামণ্ডপের বরাদ্দের চাল কেনার সুযোগ নেই। আমরা মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে বরাদ্দপত্র দিয়ে দিচ্ছি। এখন তারা চাল বিক্রি করবেন, নাকি নিজেদের কাছে রাখবেন, সেটি তাদের বিষয়।”
