নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ডিম বিতরণ, সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, এনিম্যাল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদ ভবন-২-এর সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। পরে পাঠশালা একুশের তত্ত্বাবধানে বালুচর এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ডিম বিতরণ করা হয়।
এরপর একই ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘ডিমে পুষ্টি, ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগমুক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ. টি. এম. মাহবুব-ই-ইলাহী, ভেটেরিনারি, এনিম্যাল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মাহবুব, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল এবং ওয়েস্টার পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিশারিজ লিমিটেড, সিলেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইমরান হোসেন।
পাঠশালা একুশের তত্ত্বাবধানে বালুচর এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ডিম বিতরণ করা হয়
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার বলেন, “ডিম সহজলভ্য ও পুষ্টিকর প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং অপুষ্টি দূরীকরণে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও পোল্ট্রি শিল্পের অবদান রয়েছে। এ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে নিরাপদ ও মানসম্মত ডিম উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ, উন্নত খামার ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক, শিক্ষার্থী, খামারি, উদ্যোক্তা ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান। সেমিনারে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একজন খামারি ও একজন সরকারি কর্মকর্তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।
