সমুদ্রে নৌকোডুবি (প্রতীকী ছবি)ছবি: X
Published on
:
2 min read
জিবুতির কাছে সমুদ্রে লঞ্চ উল্টে ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ১১৬ জনের বেশি। মৃতদের মধ্যে রয়েছে ১৫ শিশুও। রবিবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের অভিবাসন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (IOM)। নিখোঁজদের খোঁজে সমুদ্রে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
IOM সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। উন্নত জীবিকা, নিরাপত্তা ও কাজের সন্ধানে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে বহু মানুষ জিবুতি হয়ে ইয়েমেনের দিকে পাড়ি দেন। প্রায় ৩৫০ অভিবাসীর সেই রকমই একটি দল লঞ্চে ছিল বলে জানা গিয়েছে। জিবুতি থেকে ইয়েমেনের দিকে যাচ্ছিল তারা। ওবক বন্দরের উত্তরে গুহেরের কাছে আচমকাই লঞ্চ উল্টে যায়।
অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারণেই লঞ্চ উল্টে যায় বলে দাবি করেছেন IOM-এর এক আধিকারিক। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন মহিলা এবং ১৫ শিশু রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে ন’জন মেয়ে এবং ছ’জন ছেলে। জিবুতির প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ৮০ জন যাত্রী প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই ইথিওপিয়ার নাগরিক। মূলত তাঁদের বয়ান থেকেই গোটা ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি ইথিওপিয়ার সরকার। বেঁচে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে ৬৪ জনকে স্থানীয় অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে জিবুতি প্রশাসন। তবে ৩৫০ অভিবাসীকে কেন একটি লঞ্চে তোলা হলো, তাঁরা কী পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের দিকে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।
জীবিকার সন্ধানে সাগর পেরিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশে পৌঁছনোর ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বাব-আল-মান্ডেব প্রণালী হয়ে বহু অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন। তার পরে ছড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন দেশে। কিন্তু এভাবে সাগর পারাপার করতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমাদের টিম কাজ করছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চলছে।’
