দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
মাদক ব্যবসায়ী শুভ ওরফে বিল্লাল হত্যাকান্ডে মূল পরিকল্পনাকারী অনিক ইসলাম ও অহিদ গ্রেপ্তার এড়াতে বিদেশে পালিয়েছে। হত্যাকান্ডের এক মাসে ভিতরে তাদের পাসপোর্ট ও ভিসা সংগ্রহে বিস্তারিত তথ্য ইতোমধ্যে তদন্তকারী টিমের হাতে রয়েছে। অনিক ও অহিদের নেপাল পাঠানো কৌশল নিয়ে ডিবি’র ফাঁদ পেতেছে। যার কারণে তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে শুভ হত্যাকান্ডে মূল রহস্য প্রকাশ্যে আনতে চান ডিবি টিম।
পলাতক অনিক ইসলামের মা ফাতেমা বেগম ফতে’র মাদক স্পটে ডিবি হানা নিয়ে শুভ-কে সন্দেহ করা হয়। এর আগেও দুই বার শুভ অনিকের পরিবারের সাথে বাড়াবাড়ি করায় ক্ষোভ ছিলো। যার কারণে আমলাপাড়া মা ফতে মাদক স্পট থেকে চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটে শুভ মাদক স্পট আরো জমকালো পরিণত হয়। এতে শুভ বিশস্থদের ইয়াবা লোভ দেখিয়ে কাছে টেনে নেয় অনিক ইসলাম। এক সময় অয়ন ওসমানের নাম ভেঙ্গে আমলাপাড়া ত্রাস পরিণত হন। এমনকি জুলাই-আগষ্ট ছাত্র-জনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে আমলাপাড়া থেকে বের হয়েছিলো অনিক বাহিনী।
আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে আমলাপাড়া বিএনপি নেতাদের আস্থাভাজন রূপ নেয় অনিক ইসলাম। তার বাহিনীদের শেল্টার দিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী রূপ দেয় পরবর্তিতে ক্ষমতা আসা নেতারা। যার কারণে জেলার নতুন এসপি যোগদানের দিনই শুভকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে অনিক ও অহিদ।
গত ৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটে মাদক স্পট দখল ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালকে হত্যা করা হয়। হোসিয়ারি সমিতির ভিতরে-বাহিরে দুই দিনের পরিকল্পনায় শুভকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করা হয় বলে জানান গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের জবানবন্দিতে। সদর থানা পুলিশ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) তদন্তকারী টিম অভিযান চালিয়ে শুভ হত্যার ২৪ ঘন্টা ব্যবধানে তিন আসামী গ্রেপ্তারে রহস্য জট খুলে। এতে মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন, সিয়াম আহম্মেদ সিজান ও সোহানকে গ্রেপ্তার করে শুভ হত্যাকান্ডে ছক উদঘাটন করেন। শুভ হত্যা করে চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের মাদক স্পট দখল ছক করে অনিক। মায়ের আমলাপাড়া মাদকের আখড়া ও চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটে মাদক স্পট নিয়ে আধিপত্য বিস্তার বড় করার লক্ষ্য ছিলো অনিক ও অহিদের।
শুভ হত্যার দুই সপ্তাহে ব্যবধানে অভিযান চালিয়ে ধিমনকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী থেকে। তিনি শুভ হত্যাকান্ডে অনিক ও অহিদের সংশ্লিষ্টরা জড়িয়ে জবানবন্দি দেন তিনি। হোসিয়ারি সমিতিকে পরিকল্পনা বৈঠকের একাধিক ছক জানান তদন্তকারী টিমকে।
শুভ হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহভাজন রাহাত ও বাহার গা-ঢাকা দিয়েছেন। এক সপ্তাহে বেশি সময় ধরে অনিক ও অহিদ নেপালে পাড়ি জমিয়েছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে সন্দেহভাজন চার আসামী এখন কৌশল অবলম্বন করছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা কারণে প্রকাশ্যে দেখা যায় না। এরপরও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চাষাঢ়ায় গুলি ও ছুরিকাঘাত করে হত্যাকান্ডে রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতোমধ্যে মাইগ্যা সুমনের স্বীকারোক্তি মিশনপাড়া রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে দেয়ালের বাগান থেকে অস্ত্র ও হোসিয়ারি সমিতির ফটক থেকে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল উদ্ধার করে ডিবি। মাদক নিয়ে দ্ব›েদ্বর জেরে হত্যার শিকার শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের দাফন নিয়ে তদন্তে ধীরগতিতে রূপ নেয়।
মাদক ব্যবসা দ্ব›দ্ব নিয়ে শুভ ওরফে বিল্লাকে হত্যা পরিকল্পনা করে বাস্তবায়ন করেন মাদক স¤্রাজ্ঞী ফতে ও তার ছেলে অনিক। এতে অর্থদানকারী মাইগ্যা সমুন, সিয়াম, বিষু, সোহান, ধিমন, অনিকের মা ফতে, অনিকের বাবা ইসলাম, অনিকের ভাই শাওনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এখনো প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী পলাতক রয়েছেন গুলিকারী অনিক, অহিদ, বাহার, রাহাত, ইমন, জয়, সাজ্জাদ সহ দুই ভাড়াটে খুনি।
