কালবেলা · স্বাস্থ্য
দীর্ঘায়ুর রহস্য কী, সুস্থভাবে দীর্ঘদিন বাঁচার উপায়
১৯/১০/২০২৬

১০৫ বছর বয়সেও নিজেই বাজার করেন, রান্না করেন চীনের গাও তিংকুয়ান। আর ৯৬ বছর বয়সেও ঘর গোছানো, গাছে পানি দেওয়ার মতো কাজ করেন ঝাং মিংদে। এমন জীবনযাপনের ছবিই দেখা যায় চীনের জিয়াংসু প্রদেশের রুগাও শহরে, যা পরিচিত ‘বিশ্বের দীর্ঘায়ুর শহর’ হিসেবে।
শহরটিতে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৩১ জনের বয়স ১০০ বছর বা তার বেশি। এখানকার মানুষের গড় আয়ু ৮৩ দশমিক ১২ বছর। কীভাবে এত দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকছেন তারা? নিয়মিত কাজ, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি দীর্ঘায়ুর পেছনে বিজ্ঞানও খুঁজছে নতুন সূত্র।
চীনের ঐতিহ্যবাহী প্রবীণ দিবস ‘চোংইয়াং উৎসব’ উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর রুগাও শহরের প্রবীণদের জীবনযাপন তুলে ধরে চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন)।
শহরটির অনেক প্রবীণ নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করেন, চা পান করেন, অডিওবুক শোনেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নেন। দৈনন্দিন এসব অভ্যাস তাদের সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে।
২০১৩ সালে রসায়নে নোবেলজয়ী এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল লেভিট বলেন, দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার বিষয়টি শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে না। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, ধূমপান এড়িয়ে চলা, অতিরিক্ত মদ্যপান না করা, প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা, ব্যায়াম করা এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, চীনের শিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এক দশকের বেশি সময় ধরে বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্ত্রের একটি জীবাণু থেকে তৈরি লিথোকলিক অ্যাসিড দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জৈবিক প্রক্রিয়া সক্রিয় করতে পারে।
চীনা বিজ্ঞানী লিন শেংছাইয়ের নেতৃত্বে গবেষকেরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালান। এতে দেখা যায়, ইঁদুরগুলোকে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম খাবার দিলে কিছু সময় পর তাদের রক্তে লিথোকলিক অ্যাসিডের পরিমাণ ১০ গুণেরও বেশি বেড়ে যায়।
গবেষকদের মতে, এই পদার্থ বয়স্ক ইঁদুরের পেশির ক্ষতি সারাতে এবং কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে। পরীক্ষায় ইঁদুরের আয়ু প্রায় ৫ শতাংশ বাড়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক রেন ইউয়ান বলেন, মানুষের দীর্ঘায়ু বৃদ্ধি সামাজিক অগ্রগতির ইতিবাচক দিক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা মানুষের আয়ু ও সুস্থতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘায়ুর কোনো একক রহস্য নেই। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক সম্পর্ক এবং উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা- সবকিছুই দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনে ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: সিজিটিএন
মূল প্রতিবেদনে যান ↗