ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গতরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। হামলায় ছয়জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার পর বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। এর কিছুক্ষণ আগে রাশিয়া ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে তারা ‘এতটা কাছাকাছি আগে কখনো আসেননি।’
ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধে অংশ নেয়ার অভিযোগে আটক মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেয়ায় পুতিনের প্রশংসা করেন উইটকফ।
তিনি রুশ প্রেসিডেন্টকে ‘মানবতাবাদী’ বলে অভিহিত করেন।
তবে সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠক শেষে ক্রেমলিন জানায়, মস্কো নীতিগতভাবে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে রাজি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওই কূটনীতিকের মাধ্যমে পাঠানো ইউক্রেন ও ইউরোপের শান্তি প্রস্তাবে তেমন কোনো ‘সারবস্তু’ নেই।
গতরাতে হামলা অব্যাহত ছিল। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রাজধানীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী কিয়েভের দিকে ‘আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে’ বলে সতর্কবার্তা দেয়। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রুশ কর্তৃপক্ষও জানায়, রাতের হামলায় তারা বেশ কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এর মধ্যে মস্কোর দিকে উড়ে আসা ১৬০টিরও বেশি ড্রোন রয়েছে।
মঙ্গলবার অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে রাশিয়ায় যান উইটকফ। ট্রাম্প ও ইউক্রেনের নেতার মধ্যে তিক্ত বিরোধ প্রশমিত করাই ছিল ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য।
পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় দূর থেকে অংশ নেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও।
ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু করতে রাশিয়া ‘নীতিগতভাবে প্রস্তুত’। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ আলোচনা শুরু হতে পারে। ক্রেমলিন চায়, আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাক।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরুর নির্দেশ দেন পুতিন।
এরপর থেকে তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। একই সঙ্গে পূর্ব ইউক্রেনের বাকি অংশ দখলে নেওয়ার বিষয়ে মস্কোর অভিপ্রায়ের কথাও জানিয়ে আসছেন।
