Published on
:
2 min read
আর্জেন্তিনার ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির (Lionel Messi) নামে পেরুর আন্দিজ় পর্বতমালায় আবিষ্কৃত হয়েছে একটি নতুন প্রজাতির গাছ। এই নিয়ে পৃথিবীর ছ’টি ভিন্ন প্রজাতির নামের সঙ্গে জড়িয়ে গেল মেসির নাম। সেই তালিকায় রয়েছে টিকটিকি, মাকড়সা, প্রাগৈতিহাসিক সামুদ্রিক প্রাণী, শকুন এবং ছত্রাকও। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল ফুলের গাছ। গাছটির ফুলের রং আর্জেন্তিনার জাতীয় পতাকার নীল-সাদা রঙের সঙ্গে মিলে যায়। তবে এই আবিষ্কারের সঙ্গে রয়েছে উদ্বেগের খবরও। গবেষকেরা জানিয়েছেন, নতুন প্রজাতির এই গাছটি বিপন্ন।
মেসির নামে নতুন গাছ, ফুলের রঙে আর্জেন্তিনার ছোঁয়া
নতুন প্রজাতির গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Salvia messii। পেরুর মধ্য ও দক্ষিণ আন্দিজ় পর্বতমালার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এই গাছের দেখা মেলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৪০০ মিটার উচ্চতায় পাথুরে ও শুষ্ক ঢালে গাছটি জন্মায়। এটি তুলসী ও পুদিনার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। গাছটি প্রায় দেড় মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর ফুলের হাল্কা নীল ও সাদা রং আর্জেন্তিনার জাতীয় পতাকার কথা মনে করিয়ে দেয়।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্তিনার হয়ে ফুটবল খেলেছেন মেসি। দেশের হয়ে তাঁর অসামান্য সাফল্যের কথা মাথায় রেখেই এই নামকরণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের নিয়ম মেনে কোনও ব্যক্তির পদবি লাতিন ভাষার আদলে ব্যবহার করা হয়। Salvia messii নামটির অর্থ, মেসির নামে পরিচিত এক ধরনের সেজ় গাছ। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সান মার্কোসের প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্রহশালার গবেষক পল গনজালেসের নেতৃত্বে এই গাছের প্রজাতি সম্পর্কে গবেষণা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আর্জেন্তিনার গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং হুয়ারাঙ্গো নেচারের জীববিজ্ঞানী জঁ কাপচা-রামোস। উদ্ভিদবিজ্ঞানের পত্রিকা Phytotaxa-র অক্টোবর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁদের গবেষণাপত্র।
তবে শুধু মেসির নামে নামকরণই এই আবিষ্কারের একমাত্র গুরুত্ব নয়। নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে জন্মানো এই গাছটি বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় রয়েছে। তাই গাছটির নাম বিশ্ব জুড়ে পরিচিতি পেলেও, তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষা করা জরুরি।
ছ’টি প্রজাতির নামে মেসির ছাপ
২০২৪ সালের মে মাসে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস মেসিকে এমন ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যাঁর নামে সবচেয়ে বেশি প্রজাতির নামকরণ হয়েছে। তখন সেই সংখ্যাটি ছিল পাঁচ। নতুন এই গাছের নাম যুক্ত হওয়ায় সংখ্যাটি বেড়ে হলো ছয়।
তালিকায় থাকা প্রজাতিগুলি হলোঃ
Liolaemus messii — আর্জেন্তিনায় পাওয়া এক ধরনের টিকটিকি, ২০২১ সালে নামকরণ।
Acanthogonatus messii — আর্জেন্তিনার পাতাগোনিয়া অঞ্চলের মাটির নীচে থাকা এক ধরনের মাকড়সা, ২০২৩ সালে নামকরণ।
Discinisca messi — আর্জেন্তিনায় পাওয়া প্রাগৈতিহাসিক সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম, ২০২৩ সালে নামকরণ।
Vultur messii — প্রাচীন যুগের এক ধরনের শকুনের জীবাশ্ম, ২০২৩ সালে নামকরণ।
Cercopemyces messii — আর্জেন্তিনার সালতা প্রদেশের আন্দিজ়ের মেঘে ঢাকা বনাঞ্চলে পাওয়া এক ধরনের ছত্রাক, ২০২৪ সালে নামকরণ।
Salvia messii — পেরুর আন্দিজ় পর্বতমালায় আবিষ্কৃত সেজ় গাছ, ২০২৬ সালে নামকরণ।
অর্থাৎ, জীবিত প্রাণী থেকে শুরু করে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর জীবাশ্ম, ছত্রাক এবং ফুলের গাছ— বিভিন্ন ধরনের প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মেসির নাম। তালিকায় থাকা জীবাশ্মগুলিও প্রমাণ করে, এই সম্মান শুধু বর্তমানে বেঁচে থাকা প্রজাতির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানের জগতে অবশ্য মেসিই একমাত্র ফুটবলার নন, যাঁর নামে বিভিন্ন প্রজাতির নামকরণ হয়েছে। দিয়েগো মারাদোনার নামেও চারটি জীবের নামকরণ করা হয়েছিল। যদিও তার মধ্যে Anaphes maradonae নামে একটি ক্ষুদ্র বোলতা পরে অন্য একটি আগে থেকে পরিচিত প্রজাতির সঙ্গে একই বলে চিহ্নিত হয়। ফলে সেটিকে এখন আর স্বতন্ত্র প্রজাতি হিসেবে গণ্য করা হয় না।