চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে তিনি ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
প্রতিবেদন লেখার সময় সোমবার দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন। রাত দেড়টার দিকে খবর আসে, ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তাঁর সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনের ভেতরে ঢোকেন।
ভেতরে প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করেন চিকিৎসক আবদুল্লাহ। তিনি জানান, শাহরিয়ারের সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৭০ ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ১০০ মিলিমিটার পারদ। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসক জানান, আরও একজন অসুস্থ। তবে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।
শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সুস্থ আছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দুইজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। তাই আমি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছি। এখানে যেহেতু সবাই দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন, তাই সবাই অসুস্থ ও ক্লান্ত অনুভব করছেন।’
গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগেই অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে ও তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। ফলে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার সকাল নয়টার দিকে উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে ঢোকেন। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা।
এতে উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও তাঁর সহযোগীরা এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপাচার্যসহ ১০ থেকে ১১ জন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন।
