পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ট্রেন ভ্রমণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় দিন দিন যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া এবং ঢাকা থেকে দুই জোড়া ট্রেনে প্রতিদিন কক্সবাজার রুটে যাতায়াত করেন প্রায় ৮–৯ হাজার যাত্রী। কিন্তু পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর ট্রেনযাত্রাকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে। দেশের অন্য রুটের চেয়ে এই রুটের ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এই রুটের রাতের ট্রেনযাত্রীদের মাঝে আতংক বিরাজ করে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন মহল। অবশেষে যাত্রীদের নিরাপত্তায় পাথর নিক্ষেপকারী শনাক্তে কক্সবাজার রুটের ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
কক্সবাজার রুটের ৯টি স্টেশনের বিভিন্ন মাস্টারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও ঢাকা–কক্সবাজার রেলপথে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে প্রধানত রামু, ইসলামাবাদ, ডুলাহাজারা, চকরিয়া ও হারবাং এলাকায় বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। দিনের চেয়ে সন্ধ্যার পর থেকে রাতে ছোড়ার ঘটনা ঘটছে বেশি। পাথরের আঘাতে ট্রেনের জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীরা গুরুতর আহত হচ্ছেন। গত এক–দেড় বছরে অনেক যাত্রী মারাত্মক আহত হয়েছেন। অনেক যাত্রীর মাথা ফেটে গেছে। অনেকের চোখে মারাত্মক জখম হয়েছে। এছাড়া নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের মূল্যবান সম্পদ।
রামু, হারবাং, দোহাজারী, ডুলাহাজারা ও চকরিয়া স্টেশন মাস্টারে সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দেড় বছরে এই রুটে ৫০টির বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে রামুর অংশ থেকে ইসলামাবাদ, ডুলাহাজারা, চকরিয়া, হারবাং ও লোহাগাড়া চুনতি অংশ পর্যন্ত এ দীর্ঘ রেলপথের দুই পাশে গভীর অভয়ারণ্য এবং ঘন জঞ্জলে ভরপুর পাহাড়। কক্সবাজার রুটের এই অংশে সবচেয়ে বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। গত দেড় বছরে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।
কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, কক্সবাজার রুটের ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতি রোধে প্রাথমিকভাবে পর্যটক এক্সপ্রেসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাথর নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে অন্য ট্রেনেও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর বেশ কিছুদিন হারবাং স্টেশন মাস্টারের দায়িত্বে ছিলেন পটিয়া স্টেশন মাস্টার আব্দুস সালাম ভূঁইয়া। ওই এলাকার মানুষের ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে গতকাল তিনি আজাদীকে বলেন, রামু, ডুলাহাজারা, চকরিয়া হারবাং স্টেশন এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেশি ঘটে। বিশেষ করে চকরিয়া–ডুলাহাজারা অংশে সবচেয়ে বেশি। প্রথম যখন ট্রেন চালু হয়েছে হারবাং এলাকায় ওরা ট্রেনে গোবর এবং কাদা মাটি মেরে দিত। ওই এলাকার মানুষ দিনেও ট্রেনে পাথর মারে। দিনেদুপুরে ট্রেনে পাথর মেরে ওরা মজা পায় মনে হয়। ওরা খুশিতে মারে নাকি অন্য কারণে মারে বুঝি না।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেস নামে দুই জোড়া এবং ঢাকা থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস এবং পর্যটক এক্সপ্রেস নামে দুই জোড়া ট্রেনে প্রতিদিন কক্সবাজার রুটে যাতায়াত করে।

