রাজধানীর গুলশানে গাড়িচাপায় কাই নামের একটি পোষা কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত গাড়িটি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কুকুরটির অভিভাবক ইপ্সা নাজিয়া আদিবার করা মামলার তদন্ত চলছে। তবে ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে গুলশান-২ এর ৬৩ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আজ বৃহস্পতিবার গাড়ি জব্দ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গুলশান থানা পুলিশ। কাই চার বছর বয়সী সাইবেরিয়ান হাস্কি জাতের কুকুর। আদিবার অভিযোগ, সড়কে খেলার সময় কুকুরটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে একটি কালো টয়োটা ফরচুনার গাড়ি।
গুলশান থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর বলেন, গত ১২ অক্টোবর রাতে এ ঘটনায় মামলা করেন ইপ্সা নাজিয়া আদিবা। পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। গাড়িটি একটি বাসায় প্রবেশের সময়ের ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, পোষা কুকুরটির মৃত্যুর ঘটনায় চালকের অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার সময় চালকের আসনে কে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদিবার অভিযোগ, কাইকে চাপা দেওয়ার পরও গাড়িটি থামানো হয়নি। আশপাশের ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলেও চালক গাড়ি থেকে নামেননি।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি কালো টয়োটা ফরচুনার গাড়ি সড়কে ঘোরানোর সময় সামনে থাকা কুকুরটির ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রথম দিকে ফুটেজে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর স্পষ্ট না হওয়ায় সেটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে গাড়িটি বা এর মালিক সম্পর্কে তথ্য চেয়ে গুলশান এলাকার বাসিন্দাদের সহায়তা চান আদিবা।
গত ১১ অক্টোবর কাইয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন তিনি। পরে ওই পোস্টের সূত্র ধরে গাড়িটি শনাক্ত করতে সহায়তা করেন অনেকে। গত ১২ অক্টোবর গুলশানের ৬৮ নম্বর সড়কের একটি বাসায় গাড়িটির সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে গুলশান থানায় মামলা করেন আদিবা।
ফেসবুক পোস্টে কাইয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আদিবা লেখেন, কাই তাঁর কাছে শুধু একটি কুকুর ছিল না; সে ছিল সন্তানের মতো, পরিবারের চেয়েও বেশি কিছু।
আদিবা জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে এক বন্ধুর কাছ থেকে কাইকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন তিনি। এরপর থেকে কাই তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। ঘরে কিংবা বাইরে, সবখানেই তাঁর সঙ্গী ছিল কাই।
আদিবা বলেন, ‘কীভাবে কেউ একটি অসহায় প্রাণীকে গাড়িচাপা দিয়ে এমনভাবে চলে যেতে পারেন, যেন কিছুই ঘটেনি?’
ভবিষ্যতে অন্য কারও সন্তান বা পোষা প্রাণীর সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দায়ী চালককে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে অপরাধে জড়িত গাড়িটি শনাক্ত ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় গুলশান এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন আদিবা।
