আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের ছেলে-মেয়েরাও আটক
অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে ডিজে পার্টির আড়ালে কী চলত?
রাজধানীর ভাটারায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৮৫ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উত্তরা বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৯ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণী রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তানও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার গভীর রাতে ভাটারা থানাধীন পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১-এর ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মদ, গাঁজা, কনডম ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির যুগান্তরকে বলেন, বাড়িটিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। ডিজে পার্টির আড়ালে সেখানে মাদক সেবনসহ নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চলত বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে অসংগতি রয়েছে। শুরুতে ৮৫ জনের কথা বলা হলেও পুলিশের বক্তব্যে ৮৪ জনের উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইনে ভাড়া, ডিজে পার্টির আয়োজন
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনতলা বাড়িটির পাঁচটি কক্ষ অনলাইনে এয়ারবিএনবি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি এসব কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাতযাপন কিংবা ডিজে পার্টির আয়োজন করতেন।
বাড়িটি দেখভালের জন্য মাহবুব আলম নামের একজনকে কো-হোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়িতে আয়োজিত পার্টিতে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, প্রতিটি কক্ষ একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তি ভাড়া নিতেন। অতিরিক্ত অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ টাকা নিবন্ধন ফি নেওয়া হতো। দুপুর ১২টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা বা ১১টা পর্যন্ত এসব অনুষ্ঠান চলত। মাসে ১৮ থেকে ২০টি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতো এবং প্রতিটি অনুষ্ঠানের ভাড়া প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে তিনি জানান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাড়ি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৭০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ব্যাংক হিসাবে জমা হতো। এ তথ্যের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের ডিএমপির সামারি কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ডের কথাও বলা হয়েছে।
তবে এসব সাজা কোন আইনের কোন ধারায় দেওয়া হয়েছে এবং আদালতের আদেশে ঠিক কতজনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
