Published on
:
2 min read
ইলন মাস্কের একের পর এক আক্রমণের পরে অবশেষে মুখ খুলল মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ়। সংস্থার স্পষ্ট বক্তব্য, তারা প্রতিযোগিতাকে ভয় পায় না। বরং ভারতের স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনের বাজারে মাস্কের স্টারলিঙ্ক-সহ সব সংস্থার প্রতিযোগিতাকেই স্বাগত জানায়। তবে ভারতে ব্যবসা করতে হলে প্রত্যেক সংস্থাকে দেশের আইন ও নিয়ম মেনে চলতে হবে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে রিলায়েন্স।
‘প্রতিযোগিতাই বোঝায়...’
রিলায়েন্সের বক্তব্য, সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তারা কয়েকটি তথ্য স্পষ্ট করে দিতে চায়। সংস্থার কথায়, ‘রিলায়েন্স কখনও প্রতিযোগিতাকে ভয় পায়নি। আমরা মনে করি, গ্রাহকদের সবচেয়ে ভালো পরিষেবা কে দিচ্ছে— তা বোঝার সবচেয়ে ভালো পরীক্ষা প্রতিযোগিতা।’
এ নিয়ে নিজেদের উদাহরণও তুলে ধরেছে সংস্থাটি। রিলায়েন্স জানিয়েছে, ২০১৬ সালে যখন জিয়ো টেলিকমের বাজারে প্রবেশ করে, তখন তাদের কোনও গ্রাহক ছিল না। কিন্তু গত ১০ বছরে জিয়োর গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে ৫৩ কোটির বেশি হয়েছে। সংস্থার দাবি, সাশ্রয়ী ডেটা এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরির মাধ্যমে দেশের গ্রাহকদের পরিষেবা দিয়েছে জিয়ো।
মানতে হবে দেশের আইন
স্যাটেলাইট যোগাযোগের বাজারে স্টারলিঙ্কের প্রবেশ নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে রিলায়েন্স। সংস্থার বক্তব্য, ‘আমরা স্যাটেলাইট যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানাই। স্টারলিঙ্কও তার মধ্যে রয়েছে। জিয়ো-সহ প্রত্যেক সংস্থাকেই ভারতের মানুষের স্বার্থে কাজ করতে হবে এবং দেশের আইন ও নীতি মেনে চলতে হবে।’
রিলায়েন্স আরও বলেছে, ভারতীয় বা বিদেশি— সব সংস্থার ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। সংস্থার দাবি, ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক, দু’ধরনের বিনিয়োগ এবং নতুন প্রযুক্তিকে স্বাগত জানানো হয়। তবে সেই সুযোগের ভিত্তি হতে হবে আইনের শাসন।
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছে রিলায়েন্স। সংস্থার বক্তব্য, জিয়োর নিজস্ব স্যাটেলাইট পরিষেবাও এখনও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থাৎ স্টারলিঙ্কের মতো জিয়োকেও বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু করতে নিয়ম মেনে অনুমোদন পেতে হবে।
কী বলেছিলেন ইলন মাস্ক?
স্টারলিঙ্কের ভারতে প্রবেশে দেরি নিয়ে এক্স-এ পরপর পোস্ট করে মুকেশ আম্বানিকে নিশানা করেন ইলন মাস্ক। ব্যঙ্গ করে তাঁকে ‘ভারতের আসল ক্ষমতাধর’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে উল্লেখ করেন। পরে আম্বানির সমর্থকদের ‘ইন্টারনেট শিল’ বলে কটাক্ষ করেন। মাস্কের দাবি, স্টারলিঙ্ককে বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ দিলে ভারতীয় গ্রাহকের সামনে আরও বিকল্প খুলে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিকে রিলায়েন্সের বার্তা— প্রতিযোগিতায় আপত্তি নয়, কিন্তু নিয়মের ক্ষেত্রে কোনও সংস্থার জন্য আলাদা সুবিধাও নয়।
