একদিকে মুশফিকুর রহিম, অন্যদিকে নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ কিংবা তাওহীদ হৃদয়। তাদের দলে পেতে কার কতটা আগ্রহ, কার পরিকল্পনা কতটা দূরদর্শী-সেই হিসাবেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন আয়োজন ডি-থ্রি ট্রফিকে ঘিরে। ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির এই লড়াইয়ে মাঠের খেলা শুরুর আগেই প্রথম উত্তেজনার মঞ্চ হয়ে উঠছে ক্রিকেটারদের নিলাম!
আগামী ২৬ অক্টোবর হওয়ার কথা দল গঠনের এই আয়োজন। পাঁচ তারকা হোটেলে বসবে নিলামের আসর। সেখানে শুধু ক্রিকেটারদের নাম ডাকা হবে না, প্রকাশ পাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পরিকল্পনা, শক্তি ও সীমাবদ্ধতাও। কে তারকা ক্রিকেটারের পেছনে ঝুঁকবে, কে তরুণ প্রতিভায় বাজি ধরবে, আর কে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গড়বে ভারসাম্যপূর্ণ দল-সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে নিলামের মঞ্চে।
ছয় দলের জন্য আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় আইকন ক্রিকেটার। মেহেদী হাসান মিরাজ, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহিম, নুরুল হাসান সোহান ও মোহাম্মদ নাঈমকে ঘিরে তৈরি হয়েছে দলগুলোর প্রাথমিক পরিচিতি। তবে আইকন ক্রিকেটার থাকলেই দল শক্তিশালী হয়ে যায় না। বাকি ২২ জনকে বেছে নেওয়ার সময়ই আসল চ্যালেঞ্জ। কারণ তিন সংস্করণের ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে শুধু বড় নাম নয়, প্রয়োজন কার্যকর একটি স্কোয়াড।
এবারের ডি-থ্রি ট্রফি প্রচলিত ঘরোয়া প্রতিযোগিতার চেনা ছক ভাঙতে যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টি, একদিনের ও চার দিনের ক্রিকেট-তিন সংস্করণই থাকবে একই প্রতিযোগিতার আওতায়। ছয় দল খেলবে মোট ৪২ ম্যাচ। এর মধ্যে ১৯টি টি-টোয়েন্টি, ১৬টি একদিনের এবং সাতটি চার দিনের ম্যাচ। ১৫ ডিসেম্বর বরিশালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে আসর। এরপর জানুয়ারিতে চার দিনের ক্রিকেট এবং মে মাসে একদিনের ম্যাচের পর্ব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিন সংস্করণের এই কাঠামো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য যেমন সুযোগ, তেমনি বড় পরীক্ষা। টি-টোয়েন্টির জন্য আক্রমণাত্মক ব্যাটার ও কার্যকর বোলার প্রয়োজন। একদিনের ক্রিকেটে দরকার ধৈর্য ও আগ্রাসনের মিশেল। আর চার দিনের ম্যাচে জিততে হলে চাই দীর্ঘ সময় ধরে পারফর্ম করার মতো ব্যাটার, মানসম্পন্ন পেসার ও কার্যকর স্পিনার। নিলামে ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হতে পারে পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে।
এই আয়োজনের আরেকটি বড় আকর্ষণ হতে পারে ক্রিকেটারদের নতুন বাজারব্যবস্থা। পয়েন্টভিত্তিক দল গঠনের পরিকল্পনা থাকায় প্রচলিত অর্থের দর হাঁকার নিলামের সঙ্গে এর পার্থক্য থাকবে। নির্দিষ্ট পয়েন্টের মধ্যে থেকেই প্রতিটি দলকে খেলোয়াড় বেছে নিতে হবে। ফলে শুধু তারকা ক্রিকেটার সংগ্রহ করলেই হবে না, পুরো স্কোয়াডের ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি।
বিসিবির লক্ষ্য, ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন প্রাণ ফেরানো। দীর্ঘদিন ধরে দর্শক আগ্রহ, পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রতিযোগিতার আকর্ষণ নিয়ে যে প্রশ্ন রয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামোর মাধ্যমে তার উত্তর খুঁজতে চায় বোর্ড। তবে কাগজে-কলমে যত বড় পরিকল্পনাই থাকুক, শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতার গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করবে মাঠের পারফরম্যান্স।
ডি-থ্রি ট্রফির মাধ্যমে ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগের টি-টোয়েন্টি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের একদিনের ও চার দিনের আয়োজন নতুন কাঠামোয় আসছে। তবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের মূল চার দিনের প্রতিযোগিতা ও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ আলাদা থাকবে। ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরোনো কাঠামোর পাশাপাশি নতুন একটি প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চ তৈরি করতে যাচ্ছে বিসিবি।
এখন অপেক্ষা ২৬ অক্টোবরের। সেদিনই স্পষ্ট হবে কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি কতটা শক্তিশালী দল গড়তে পারল, কার পরিকল্পনা কতটা সফল হলো।
এ ক্যাটাগরি
মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাওহীদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান, মো. শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, কাজী নুরুল হাসান সোহান, সাইফ হাসান, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন কুমার দাস, এনামুল হক বিজয়, শেখ মেহেদী হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, জাকের আলি অনিক ও নাহিদ রানা।
বি ক্যাটাগরি
সাব্বির রহমান, মার্শাল আইয়ুব, মাহমুদুল হাসান জয়, পারভেজ হোসেন ইমন, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, তানজিম হাসান সাকিব, মোহাম্মদ রুবেল, তানভীর ইসলাম, হাসান মুরাদ, রাকিবুল হাসান, অমিত হাসান, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, মোহাম্মদ মিঠুন, ইয়াসির আলী চৌধুরী, জাকির হাসান, সাদমান ইসলাম, শাহাদাত হোসেন দিপু, আফিফ হোসেন ধ্রুব, এবাদত হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাসুম আহমেদ, নাঈম হাসান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও আলিস আল ইসলাম।
