প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও আধুনিক শিল্প খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) ব্যয়ে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্ক। বিশ্ব বৌদ্ধিক সম্পত্তি সংস্থা (WIPO)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত বৈশ্বিক তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে নবম স্থানে অবস্থান করছে দেশটি।
ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিপি) অনুযায়ী প্রস্তুত করা এই আন্তর্জাতিক তালিকায় দেখা যায়, ২০২৪ সালে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে তুরস্কের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক মোট গবেষণা ব্যয়ের প্রায় ১.৫ শতাংশ একাই অবদান রাখছে দেশটি। নিজস্ব সামরিক শিল্প, মহাকাশ গবেষণা, অটোমোবাইল, জৈবপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উচ্চপ্রযুক্তির খাতে আঙ্কারার ধারাবাহিক অগ্রাধিকার ও কৌশলগত অর্থায়নের ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী গবেষণা ও উন্নয়নে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তালিকায় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের এক নম্বর গবেষণা ব্যয়কারী দেশ হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে চীন। ২০২৪ সালে বেইজিংয়ের গবেষণায় ব্যয় হয়েছে ৭৮৫.৯ বিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক ব্যয়ের ২৭.৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, ৭৮১.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মোট ১৮৬.০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে জাপান, ১৩৬.৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৩২.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানি।
তালিকায় যথাক্রমে ৮৬.৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে ষষ্ঠ যুক্তরাজ্য, ৭৫.৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে সপ্তম ভারত এবং ৬৫.৮ বিলিয়ন ডলার নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। তুরস্কের পর তালিকার দশম স্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, যাদের বার্ষিক গবেষণা ব্যয় ৩৮.৪ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পশ্চিমা আধিপত্য ও এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও গবেষণা ও প্রযুক্তিতে তুরস্কের এই বিশাল বরাদ্দ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
