Published on
:
2 min read
পার্থ দত্ত
দশ বছর আগে রিও অলিম্পিক্সে রাইফেল শুটিংয়ে তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। মুম্বইয়ের প্রবাসী বাঙালি অয়নিকা পাল ৩৪ বছর বয়সেও অলিম্পিক পদক জেতার স্বপ্নটা এখন বয়ে বেড়াচ্ছেন।
এরই মধ্যে চেম্বুরের বাসিন্দা এমন একটা কাজ করে ফেললেন, যা দেশের খেলাধুলোয় বিরল। অলিম্পিয়ান হিসেবে তিনি স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (সাইয়ের) অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের চাকরি পেয়েছেন চলতি মাসের শুরুতেই। দেশের খেলাধুলোর মূল নিয়ন্তা সাই। তার উচ্চপদে বসাটা বিরাট ব্যাপার। এতে ক্রীড়াবিদদের সুবিধে হবে। অয়নিকা খেলোয়াড় হিসেবে বুঝবেন স্পোর্টস পার্সনদের অভাব অভিযোগ। তাঁর প্রথম পোস্টিং সাইয়ের সদর দপ্তর নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে।
শনিবার বাঙালিরা যখন মেতেছে মহাসপ্তমীর আনন্দে, তখন দিল্লি থেকে মুম্বইয়ের পথে অয়নিকা। দিল্লি বিমানবন্দরে বসেই তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘আমি প্রবাসী হলেও আসলে তো বাঙালি। তাই পুজোয় বাবা–মা–বোনকে ছেড়ে থাকা কঠিন। শনি–রবি সাই ছুটি। তাই চেম্বুরে বাড়ি ফিরে বাঙালি পোশাকে পরিবারের সঙ্গে প্যান্ডেল হপিং করব। বাংলার মতো না হলেও মুম্বইয়ে প্রচুর দুর্গা পুজো হয়।’
অয়নিকার পরিবার আদ্যন্ত বাঙালি। তাঁর বাবা অসীম পাল বাংলার নামী ওয়াটারপোলো প্লেয়ার ছিলেন। বাংলার হয়ে একাধিকবার জাতীয় মিটে খেলেছেন। আটের দশকের শেষ দিকে খেলার সুবাদেই সেন্ট্রাল রেলে চাকরি নিয়ে মুম্বইয়ে চলে যান। অসীমের মা, ভাইরা থাকেন লেকটাউনে। বছরে বেশ কয়েকবার অসীম কলকাতায় আসেন। অয়নিকাও এসেছেন। কলকাতার পুজোয় কখনও এসেছেন? অয়নিকার জবাব, ‘আসিনি বলে আফসোস তো রয়েইছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, প্রতি বছর পুজোর সময়েই কিছু না কিছু কাজে আটকে পড়ি। পড়াশোনার জীবনে মুম্বইয়ে এই সময়ে পরীক্ষা থাকত। ১৪ বছর বয়সে শুটিং শুরুর পরে এই সময়ে সময়ে ক্যাম্পে অথবা টুর্নামেন্টে ব্যস্ত থেকেছি। তবে সুযোগ পেলে কলকাতার পুজো একবার তো দেখবই।’
বাবা অসীম খেলার সুবাদে চাকরি পেলেও অয়নিকার এত বড় চাকরি হয়েছে তাঁর শিক্ষার যোগ্যতায়। একজন স্পোর্টস পার্সন যে এমন বিদ্যের জাহাজ হতে পারেন, তার উদাহরণ অয়নিকা। ইলেক্ট্রনিক্সে এম টেক করেছেন। তার পরে সেরেছেন লুসানে ওয়ার্ল্ড অলিম্পিক ফোরামের স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট কোর্স। কয়েকমাস আগে ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে নিয়ে এসেছেন ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রিও। যা তাঁকে সাইয়ের উচ্চপদে বসিয়ে দিয়েছে। কাজের ফাঁকে তিনি শুটিং প্র্যাক্টিসও করছেন পুরোদমে।
১০ মিটার এয়ার রাইফেলের সঙ্গে অয়নিকা এখন ৫০ মিটার থ্রি পজিশনে নামেন। শেষ জাতীয় মিটে পদকও পেয়েছেন। চেষ্টা চালাচ্ছেন নিজের সেরাটা ধরে রাখে ফের জাতীয় টিমে ঢোকার। অয়নিকার কথায়, ‘এম টেক করার পরে আমার কাছে অনেক চাকরির প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু আমার স্বপ্নই ছিল স্পোর্টস প্রশাসনে আসা। সেই স্বপ্নই পূরণ হয়েছে। চাইব, দেশের খেলাধুলোর সঠিক উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের পাশে থাকার।’ না থেমেই তিনি যোগ করেন, ‘তবে আর একটা অধরা স্বপ্ন, অলিম্পিক পদক জেতার চ্যালেঞ্জ এখনও ধরে রেখেছি।’
