ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে
-->কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের আগে কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে একটি আবাসিক হোটেলে রিয়াজ উদ্দিন নামের এক যুবকের সঙ্গে এক রাত অবস্থান করেছিল। হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’, বয়স ১৮ বছর; পরিচয় দেওয়া হয় রিয়াজের স্ত্রী হিসেবে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে তাদের একসঙ্গে আসা-যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে তারা কুটুমবাড়ি সড়কের শেষ মাথার একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। পরদিন বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছাড়েন। ফুটেজে তাজমিনকে লাল জামা পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা কুমিল্লায় উদ্ধার হওয়া তার মরদেহের পরনের জামার সঙ্গে মিলে যায়।
গত ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তার দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাজমিনের সঙ্গে পরিচয় হয়।
আরও পড়ুন
রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘তাজমিনের সঙ্গে প্রায় পাঁচ মাস আগে ইনস্টাগ্রামে আমার পরিচয় হয়। এরপর নিয়মিত কথা হতো। গত ৪ অক্টোবর হাতঘড়ি নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর সে বাড়ি ছেড়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়। পরে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসার জন্য বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৬ অক্টোবর কক্সবাজারে আসার পর আমরা কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে কক্ষ ভাড়া নিই। সেখানে এক রাত থাকার পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছেড়ে দিই। পরে বিকেলে ৯০০ টাকা দিয়ে তার কুমিল্লাগামী আইকনিক এক্সপ্রেস বাসের টিকিট কেটে দিই। কুমিল্লায় নেমে বাড়ি যাওয়ার জন্য তাকে আরও ৫০০ টাকা দিই।’
রিয়াজ বলেন, ‘কুমিল্লায় ফেরার পথে তাজমিনের সঙ্গে আমার মোবাইল ফোনে কথা হয়। এ সময় সে অটোরিকশাচালকের পরিচয় ও বিস্তারিত জানায়। রাত দেড়টার দিকে তার লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর যোগাযোগ করতে পারিনি। পরদিন টেলিভিশনে তার ধর্ষণ ও হত্যার খবর জানতে পেরে হতবাক হয়ে যাই। আমি কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে প্রায় তিন বছর ধরে চাকরি করছি।’
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে অটোরিকশা ভাড়া করে বাড়ি ফিরছিল তাজমিন। চালক সুমন মিয়া (৩৫) তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জানায় পুলিশ। পরে তাজমিনের আইফোন নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়ার একটি ধানখেতের আইলের পাশ থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
অমিয়/
