মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে না পারায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হন মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন (৩৯)। পরে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসান প্রাথমিকভাবে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।
এরপর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে গোসলের প্রস্তুতিকালে স্বজনরা শাকেরের মাথার পেছনে একটি ছিদ্র দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মরদেহ পুনরায় হাসপাতালে নেয়া হয় এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৃষ্ণ দাস বিশ্বাস জানান, নিহতের মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর গুলিতে হত্যার বিষয়টি সামনে আসে।
এদিকে প্রাথমিক পরীক্ষায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে না পারার ঘটনায় চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা ডাক্তার মাইনুল হাসানের বিরুদ্ধে মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করতে না পারা ও কর্তব্য অবহেলার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানকে হাসপাতালের সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন ফকির জানান, যুবদল নেতা শাকের হত্যার কারণ সঠিক সনাক্ত করতে না পারার ঘটনায় ইএমও ডাক্তার মাইনুল হাসানকে হাসপাতালের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে।
অন্যদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার (৩৮) ও শামীমা তাবাসসুম লুবনা (৩১) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রনিকে এবং এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকৃতী এলাকা থেকে শামীমা তাবাসসুম লুবনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে গ্রেপ্তার রনি শিকদারের বড় ভাই রাজীব শিকদার দাবি করেছেন, নিহত শাকেরের সঙ্গে রনির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তার ভাইকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারে মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
