কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
সাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামির আত্মসমর্পণ
সাতক্ষীরায় সাত বছর বয়সী প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোশাররফ হোসেন (৬০) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সকাল ১১টার দিকে বিচারক বিলাশ মণ্ডলের আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষে আইনজীবী সফিউল ইসলাম সফি অংশ নেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর শনিবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নের ওয়ারিয়া গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের বাড়ির ছাদে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন পলাতক ছিলেন।
অভিযুক্ত মোশাররফ সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের মৃত আছিদুর রহমান খান চৌধুরীর ছেলে। তিনি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের শ্যালক।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলতে বাড়ি থেকে বের হয় শিশুটি। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় তার দাদি ও চাচি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির ছাদ থেকে শিশুটিকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের দাবি, খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে বাড়ির ছাদে নিয়ে যান মোশাররফ হোসেন। সেখানে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর বিষয়টি প্রকাশ না করতে এবং পুলিশকে না জানাতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল চাপ সৃষ্টি করেছিল বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি।
স্বজনেরা জানান, ভয়ের কারণে প্রথমদিকে শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে সাহস পাননি তাঁরা। পরে রোববার যশোরের বাগআঁচড়া এলাকায় এক চিকিৎসকের কাছে তাকে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ তৎপর হয়। গত মঙ্গলবার শিশুটিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। একই দিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক হাকিম তনিমা মণ্ডলের আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
গত ১৩ অক্টোবর শিশুটির মা সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এরপর থেকে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, শিশুটির চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজুর পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) শাহারিয়ার।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ পরীক্ষা করলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর শ্যালক অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন রফিকুল ইসলাম।
এদিকে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাইয়ের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
