সুন্দরবনে কুখ্যাত বনদস্যু সম্রাট বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিপসা নদীর আরবানিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, কুখ্যাত সম্রাট বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিপসা নদীর আরবানিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ১১ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট নলিয়ান ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে বনদস্যুদের কবল থেকে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা জিম্মি জেলেদের ফেলে বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। ফলে অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, গত ১০ অক্টোবর সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গেলে সম্রাট বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের জিম্মি করে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন করা হয়।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন—মইনুর (৫০), বাদশা গাজী (৩৯), সুজন হোসেন (৩৪) ও ইমামুল মল্লিক (২২)। তাঁরা সবাই খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে বনদস্যুমুক্ত করতে তারা আশাবাদী।
অভিযান-সংক্রান্ত ব্রিফিং প্রদান করেন লেফটেন্যান্ট সাকিব ইমরান, নেভিগেটিং অফিসার, বিসিজিএস স্বাধীন বাংলা।
