মিসাইল প্রদর্শন উত্তর কোরিয়ারছবি : রাতুল মণ্ডল
Published on
:
2 min read
আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে, এমনই একটি শক্তিশালী ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আইসিবিএম সামনে আনল উত্তর কোরিয়া। একটি ডিফেন্স মিউজ়িয়ামে এই নতুন অস্ত্রটি প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছিল। আর তা দেখতে হাজির হয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা খোদ কিম জং উন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী রি সোল-জু এবং মেয়ে জু এ।
মিউজ়িয়ামটির নাম ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স রেভোলিউশন মিউজ়িয়াম’। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে রবিবার এর উদ্বোধন হয়। ওই দিনই ছিল রুলিং ওয়ার্কার্স পার্টির ৮১তম প্রতিষ্ঠা দিবস। মঙ্গলবার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ উদ্বোধনের ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কিম ঘুরে ঘুরে প্রদর্শনী দেখছেন। সঙ্গে ছিলেন পার্টি ও সেনার শীর্ষ কর্তারা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মিউজ়িয়ামে রাখা ছিল ড্রোন থেকে শুরু করে একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র। এ ছাড়াও রয়েছে নতুন সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক মিসাইল। আছে ৬০০ মিলিমিটারের বিশাল মাল্টিপল রকেট লঞ্চারও।
তবে, সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে হোয়াসং-২০ আইসিবিএম। এই ক্ষেপণাস্ত্র সহজে খুব কম সময়ে দ্রুত ছোড়া যায়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক সামরিক কুচকাওয়াজে প্রথম একে দেখানো হয়েছিল। উত্তর কোরিয়া একে নিজেদের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র’ বলেছে।
লঞ্চারের সামনের প্রদর্শনীতে ছিল সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত। একটি নকশায় দেখা যাচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায় একাধিক ওয়ারহেড বসানো। অর্থাৎ একটি মিসাইল একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে। এতে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করা সহজ হয়। পাশেই রাখা ছিল একটি বিশ্বমানচিত্র। তাতে দেখানো হয়েছে, এর পাল্লা আমেরিকার মূল ভূখণ্ড ছাড়িয়ে পশ্চিম এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত যেতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের’ মহাসচিব শিন জং উ এই কথা জানিয়েছেন।
কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, হোয়াসং-২০ এখনও পরীক্ষামূলক ভাবে ওড়ানো হয়নি। কেসিএনএও একে ‘নির্মীয়মাণ’ বলেই উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ ম্যাপে যা দেখানো হয়েছে, বাস্তবে সেটা কতটা সম্ভব, তা এখনও যাচাই হয়নি। আগে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, এর গাইডেন্স সিস্টেম কতটা নিখুঁত। আর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার সময় ওয়ারহেড সেই তাপ সইতে পারবে কি না, সেটাও দেখার।
উদ্বোধনে কিম নিজে মিউজ়িয়ামকে ‘মূল্যবান স্মারক’ বলেছেন। তাঁর কথায়, নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম শক্তিশালী রাষ্ট্রই এমন মিউজ়িয়াম গড়তে পারে। দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী করে তোলা পার্টির ‘কর্তব্য’, এ কথাও জানান তিনি। ভবিষ্যতে জাদুঘরের আয়তন ও প্রদর্শনী আরও বাড়ানো হবে বলেও ঘোষণা করেন কিম।
এ বার আসল প্রশ্ন হলো, এই সময়ে কেন এই প্রদর্শন? এর আগের দিনই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এশিয়া সফরে কিমের সঙ্গে তাঁর দেখা হতে পারে। শিন জং উ-র মতে, সম্ভাব্য বৈঠকের আগে কৌশলগত সুবিধা আদায়ের প্রচার এটি। অর্থাৎ আলোচনার টেবিলে বসার আগে নিজেদের শক্তি দেখিয়ে রাখা।
আরেক বিশেষজ্ঞ, কিয়ুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল চুল বলছেন অন্য কথা। আগে অস্ত্রের প্রদর্শনী হতো অস্থায়ী ভাবে। এ বার তা পাকাপাকি মিউজ়িয়াম হয়ে গেল। এর মানে, কিম নিজের সামরিক সাফল্যকে স্থায়ী উত্তরাধিকার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।
এর মধ্যেই ১২ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথাও জানিয়েছে। কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও মেলেনি। ২০১৯ সালে কিম ও ট্রাম্পের পরমাণু আলোচনা ভেঙে গিয়েছিল।
