বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের পরিচিত মুখ নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে আগামী বৃহস্পতিবার।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বড় ছেলে দেশে ফেরার পর সেদিন তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার সময় ও স্থান ঠিক করা হবে বলে গ্লিটজকে জানিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক অভিনেতা সনি রহমান।
তিনি বলেন, রোববার রাতে নাসিমা খানের মরদেহ উত্তরার লুবনা হাসপাতাল থেকে নেওয়ার পর গোসল শেষে ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা হয়। সোমবার সকালে তার মরদেহ একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
অভিনেত্রী নাসিমা খানের বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
সনি রহমান বলেন, শাবাব দেশে পৌঁছাবেন বৃহস্পতিবার। সেদিনই জানাজা ও দাফন করা হবে। জানাজার সময় ও স্থান পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
নাসিমা খানের ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গত কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন নাসিমা খান। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি; ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ব্যাপক পরিচিতি ও দর্শকপ্রিয়তা পান।
তিনি আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, গোলাম মুস্তাফা ও আজিমদের মত গুণী অভিনেতাদের বিপরীতে কাজ করেছেন।
শুধু ঢাকার চলচ্চিত্রেই নয়, তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরের চলচ্চিত্রেও সুনাম অর্জন করেছিলেন নাসিমা খান।
নাসিমা খানের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ অগাস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান ছিলেন ব্যবসায়ী। পারিবারিক সূত্রেই ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতির সঙ্গে তার পরিচয়।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে 'ধারাপাত', 'কার বউ', 'উজালা', 'বেগানা', 'আপন দুলাল', 'উলঝন', 'ম্যায় ভি ইনসান হু', 'দুই ভাই', 'গৌরী', 'আমার বৌ' ও 'ঢেউয়ের পরে ঢেউ'।
লাহোরে নির্মিত 'নয়ি লায়লা নয়া মজনু' (১৯৬৯), 'গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ' (১৯৬৯), 'আঁসু বন গয়ে মোতি' (১৯৭০) ও 'রোড টু সোয়াত' (১৯৭১) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এর মধ্যে 'গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ' ছবিটি প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
স্বাধীনতার পর একসময় রুপালি পর্দা থেকে দূরে সরে গেলেও পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মাধ্যমে আবারও পর্দায় ফেরেন নাসিমা খান।
এরপর বেশ কিছু নাটক ও চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা গেছে। দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের 'কুসুম কুসুম প্রেম' চলচ্চিত্রে সর্বশেষ অভিনয় করেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী।
